পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ዓ8 বিভূতি-রচনাবলী এসব স্থলে এই জবাবই দিতে হয়, দেওয়া নিয়ম—অভিজ্ঞতা থেকে জানি । —আচ্ছা এটা বৃহন—‘বাণ রাজার প্রতি উৰা’। পুরাণ ভাল পড়া নেই, বললাম—বাণ রাজা কে ? আমার মুখের দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে চেয়ে কুণ্ডু মশায় বললেন-বাণ রাজার কথা জানেন না 7 বাণ রাজার মেয়ে উষা,দৈত্যরাজ বাণ— বাল্যকালে দৃষ্ট উষা-হরণ নামে এক যাত্রার অভিনয় অস্পষ্টভাবে মনে পড়ল। বললাম, হ্যা হ্যা, সেই যুদ্ধ হল, অনিরুদ্ধ-টনিরুদ্ধ—উষা-হরণ— আমার পৌরাণিক জ্ঞানের অবস্থা বোধ হয় কুণ্ডু মশায়ের মুখে ক্ষীণ হাসির রেখার স্বষ্টি করল। তিনি আবার পড়ে যেতে লাগলেন। সাড়ে বারটা—পৌনে একটা । তিন চারটি কবিতা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেলে কুণ্ডু মশাই এবার ওঠবার জোগাড় করবেন বলে মনে হল । আমার দিকে চেয়ে বললেন—দোকানের কাজ করি সারাদিন, ফুয়সত পাই নে। আপনার কলকাতায় থাকেন, রাইটার লোক—আপনাদের শোনালে মনটা, তৃপ্ত হয়। আর কাকে শোনাব বলুন—সব মুখুরি দল— 龜 —আপনি বুঝি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন ? —ই্য, খাতাপত্তর লিখি । রাত দশটার সময় ছুটি পেয়ে আহারাদি সেরে তবে আপনার কাছে আসছি। একটু শুনিয়ে মনটা ভাল হয় । —কতদিন থেকে লিখছেন ? —বাল্যকাল থেকে। পাঠশালায় যখন পডি, হাতের লেখার খাতায় কবিতা লিখতাম । গুরু মশায়ের কত বেত খেতে হয়েছে সেজন্তে, মশায়। এখনও তাই । কেউ বোঝে না। দোকানে যাদের সঙ্গে কাজ করি, তারা সবাই, আমাকে খুব মনে, ভয় করে চলে—ভাবে, কবিতা লেখে এ মস্ত পণ্ডিত। যা লিখি, তাই ভাল বলে। আমার তাতে তৃপ্তি নেই—যত গগুমুধুর দল, ভাল বললেই বা কি, আর মন বললেই বা কি ! ইতরতাপশতানি যথেচ্ছয়া বিতরতানি সহে চতুরানন। অরসিকেষু রসস্ত নিবেদনং শিরসি মা লিখ মা লিখ মা লিখ ॥ আমার হয়েছে ভাগ্যে প্রত্যেক দিন মশাই ওদের সঙ্গে কারবার-অরসিক নিয়ে রসের কারবার। আমার ভাল লাগে মশাই, বলুন দিকি আপনি ? —আপনি রবি ঠাকুরের নাম শুনেছেন ? —ই্যা শুনিছি মশাই। রবি ঠাকুব মস্ত বড় কবি। কোথায় ষেন বাড়ী, যশোর না शैब्रडूम --কোনও কবিতা পড়েছেন তার ? --আজো না ।