পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার ዓ¢ কুণ্ডু মশায় বিদায় নিয়ে উঠলেন রাত একটার সময় । এর পর আমার ছুটি ফুরিয়ে গেল—কলকাতায় কৰ্ম্মকোলাহলের ੋਂ কুণ্ডু মশায়ের কথ, ভুলেই গেলাম একরকম । বড়দিনের ছুটিতে ছুদিনের জন্তে বাড়ী গিয়ে আবার তার সঙ্গে দেখা । তিনি যে দোকানে কাজ করেন, সে দোকানের মালিক ও অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট ধনী, জাতিতে র্তাতি—ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেণ্ট, তবে লেখাপড় কিছু তেমন জানেন না । লোকটি সজ্জন, রায় সাহেব খেতাব পেয়েছেন । রায় সাহেবের ধাড়ী কি-একটা কাজ উপলক্ষে আমিও নিমন্ত্রিত । সেখানেই কুণ্ডু মশায়ের সঙ্গে আমার পুনরায় সাক্ষাৎ। নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদের পান-বিড়ি বিতরণে তাকে ব্যস্ত দেখা গেল। আমি একবার বললাম—কি কুণ্ডু মশায়, ভাল তো ? আমার দিকে চেয়ে তিনি একবার হাসলেন মাত্র, ব্যস্ত বলে আমার সঙ্গে কথা কইবার সুযোগ তার তখন হল নু । * রায় সাহেব হেকে বললেন-কুণ্ডু মশায়, চ দেওয়া হয়েছে কি না সকলকে দেখুন একবার বাইরে গিয়ে। আহারাদির পয়ে দেখি সদর দরজায় কুণ্ডু মশায় দাড়িয়ে । বললেন—কাল বাড়ী থাকবেন নাকি ? —হঁ্যা থাকব । —কাল যাব একবার আপনার কাছে । —নিশ্চয়ই আসবেন । লেখাটেখা আছে নাকি কিছু ? —অনেক লিখে ফেলেছি তার পর ৷ শৈjনব । কিন্তু বিশেষ কাৰ্য্য উপলক্ষে তার পরদিন আমাকে চলে যেতে হল অন্তর। কুণ্ডু মশায়ের কবিতা শোনবার সুযোগ সেবার আমার হয় নি । এক বৎসর পরে আবার দেশে গিয়েছি। বর্ষাকাল, পথে-ঘাটে এক হাটু জলকাদা। বল্লভপুর ছাড়িয়ে নদীর ধারে বাবলাতলায় দেখি কে বসে মাছ ধরছে । আমি রাস্তা থেকেই পাড়াগায়ের ধরনে জিজ্ঞেস করলাম--কি মাছ হল ? লোকটা আমার দিকে পেছন ফিরে চাইতেই দেখি কুণ্ডু মশায় । —কুণ্ডু মশায়, মাছ ধরতে এসেছেন নাকি ? ভাল সব ? • কুণ্ডু মশায় আমায় দেখে সসন্ত্রমে উঠে দাড়িয়ে যুক্তকরে বললেন—গ্রাতঃপ্ৰণাম। এই আসছেন বুঝি ? —কি মাছ পেলেনু ? —আজে, মাছ ধরছি নে তে। এই এমনি একটু বসে—মানে—একটু আধটু লিখছি— কৌতুহল হওয়াতে রাস্ত ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে দেখি কুণ্ডু মশায় ভিজে ঘাসের ওপর র্কাচ