পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার 어업 মশায় । আর আপনি একজন সত্যিকার কবি। নয় তো পালিয়ে এসে এই নদীর ধরে বসে আপন মনে— * কুণ্ডু মশায় পাশের একটি খেলে হকোয় তামাক সাজছিলেন এতক্ষণ। আমায় বললেন • —খান ? —না। আপনি খান । ইকোয় বেশ আরামে টান দিয়ে বৃদ্ধ এমন এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে ওপরের দিকে চাইলেন, যেন জীবনের এক বড় আনন্দের সম্মুখীন হয়েছেন—অর্থাৎ থেলো ছকোটিতে টান দেবার অবকাশ পেয়েছেন । o বললেন—অামার মাথায় যখন লেখার নেশা চেপে যায়, তখন আর কিছুই ভাল লাগে না । পালিয়ে আসতেই হবে—একটু ফাক নির্জন জায়গা খুঁজতেই হবে। —আপনার বাসা তো নির্জন ? আপনি তো একাই থাকেন শুনেছি ? . —মোটেই না। কাপড়ের গদির সাতজন কৰ্ম্মচারী সব এক ঘরে থাকি। সব কজন সমান গোলমাল করে । সেখানে বসে লেখা • কাল আসবেন দয়া করে ? দেখবেন ? পরদিনই কুণ্ডু মশায়ের বাসায় গেলাম। কুণ্ডু মশায় এক বর্ণ অতিরঞ্জিত বলেন নি। বসাকদের কাপড়ের গদির পেছনে অতি অন্ধকার, প্রায় জানালাবিহীন নাতিক্ষুদ্র একটা ঘরে চারখানি সরু সরু তক্তপোশ পাতা। প্রত্যেক তক্তপোশে কাপড়ের গাটবাধা চট আগে পেতে তার ওপর অতি মলিন শয্যা বিস্তৃত। বালিসগুলো থেকে চিমটি কাটলে তেল আর ময়লা ওঠে। ঘরে আড়াআড়ি অনেকগুলো দড়ি টাঙানে—তাতে ময়লা ও আধময়লা লুঙ্গি, ন-হাতি কাপড়, সেলাই করা পুরনো কাপড় ছড়িয়ে দেওয়া । একটা তক্তপোশের তলায় একটা কেরোসিন কাঠের বাক্সের ওপর এক জোড়া নতুন বাদামী রঙের ফিতে অঁাটা জুতে সযত্বে তোলা। দেওয়ালে পেরেক দিয়ে আঁটা বিবর্ণ পুরনো খবরের কাগজ। তার ওপরে কাঠের ছোট আলনায় দু-একটা ছিটের কফ-অঁাটা কামিজ, কোনটায় কুষ্টিয়ার ছিটের একটা আলোয়ান । সমস্ত ঘরটা স্থূলত্ব, নোংরামি, কুত্রত, রুচিহীনতার একখানি সুস্পষ্ট ছবি । e একপাশের তক্তপোশে জনচারেক লোক বসে তাস খেলছে, কারও গা খোলা, কারও গায়ে আধময়লা গেঞ্জি। আমার প্রশ্নের উত্তরে একজন বললে, কুণ্ডু মশায় গদি থেকে ফেরেন নি। একজন কুণ্ডু মশায়ের খাটখানা আমায় দেখিয়ে দিলে। র্তার বালিস ততোধিক-ময়লা, উপরন্তু একটা ফুটাে দিয়ে তুলে বেরিয়ে আসছে। কিছুক্ষণ বসবার পবে তাস-খেলোয়াড়দের, হর্ষধ্বনি ও চীৎকার আমার নিকট অসহ মনে হওয়ায় একটু বাইরে যাব ভাবছি, এমন সময় কুণ্ডু মশায় ঘরে ঢুকলেন । o ওদিকে খেলোয়াড়দের একজন বলে উঠল—ও দাদ্ধ, তোমার ইলিশ মাছ সব কামু খেয়ে —এই দেখ rবক্তা মুখে পুরে দেবার অভিনয় করে ব্যাপারটা বোঝালে। আর একজন বললে—এত দেরি হল কেন ? বাবুর হাতে নাকনিচোবানি খেয়েছ কেমন, বল ? 爵