পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী واb مه রাত্রে আবার বিমলা বললে, হঁ্যাগ, কাল সকালে আমাকে নাকি ইনজেকশন দেবে ? —কেন,তখনতো তুমি রাঙ্গী হলে ? —একটা কথা বলব ? আমায় আর ওসব কষ্ট দিও না । —কেন, কি হল আবার ? —আমি এবার বঁচিব না। তোমার অদৃষ্টি বেী নিয়ে সংসার করা নেই দেখছি। —ওসব কথা বলতে নেই এখন। ছি, চুপ করে শুয়ে থাক। —তোমার কোন বুদ্ধি নেই। যা বলছি তাই শোন। q —শুনেছি। তুমি বেশি কথা বলে না। ডাক্তারে বারণ করে গিয়েছে। —ষ্ট্যাগ, তুমি আমায় বাচিয়ে তুলতে পারবে। —সে আবার কি কথা ! নিশ্চয়ই। তোমার কি হয়েছে ? এর চেয়েও শক্ত অসুখ হয় লোকের, তারা বেঁচেও ওঠে । বলে, অতুল কে কোন দুঃসহ ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছে তারই তালিক, কতক মতি থেকে কতক কল্পনার ওপর নির্ভর করে আবৃত্তি করতে লাগল স্ত্রীর শিয়রে বসে। রায়দের বাড়ীর বড়-বোঁ পাচ মাস অমুখে ভুগে কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল, ননী চকত্তি এই ধরনের টাইফয়েডে ভুগে বিছানার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল, তারা সেরে সামলে উঠে দিব্যি সংসারধৰ্ম্ম করছে। বিমলা বললে, সে কতদিন আগে ? —ও, তখন নির বেঁচে আছে। তুমি তখন হয়তো জন্মাও নি। —আমাকে তুমি বাচাও। তোমার কাছ ছেড়ে আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না, স্বর্গেও না। (l —তোমার তো সেরে গিয়েছে। ভাবনা কিসের ? চুপটি করে শুয়ে থাক তো! —সত্যি আমায় তুমি বঁাচাতে পারবে ? . অতুল দেখলে বিমলার রোগজীর্ণ কপোল বেয়ে চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে, মুখের ভাব এত বদলে গিয়েছে যে ওকে সেই বিমলা বলে চেনাই যায় না। ওর মাথার চুলের মধ্যে আঙুল চালিয়ে দিয়ে আদর করতে করতে অতুল বললে, অমন কথা বলে না। নিশ্চয়ই বেঁচে উঠবে, সে আবার একটা কথা কি । রিমলা নিশ্চিন্ত হয়ে ছেলেমানুষের মত ঘুমিয়ে পড়ল। সোমবারের বিপদ ঈশ্বরের ইচ্ছায় কেটে গেল এবং বিমলা ক্রমে ক্রমে ব্যাধিমুক্ত হয়ে পথ্য পেলে ছমাস অতি কঠিন রোগভোগের পরে। অমুখ সেরে উঠে বিমলার মস্তিষ্ক কেমন দুর্বল হয়ে গেল, কোন কথাই সে মনে রাখতে পারে না । আট দশ দিন এভাবেই কাটল । সকালবেলা আহারাদির পরে হয়তো একটু চুপ করে শুয়ে থাকে, ভার পর দুপুরের দিকে উঠে বিছানায় বলে জয়ন্ত্রীকে ডাকাডাকি করে-ও বিন্ধি, শুনে যা—ও বিন্দি —কি মামীম ? *