পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bobሥ বিভূতি-রচনাবলী —কত টাকা তোমার মনে আছে ? একটা ময়লা রুমালে বাধা ছিল মনে হচ্ছে যেন । আহ, কতগুলো টাকু—আমার আদেষ্টেই গেল ! তুমি কিছু মনে ক’রে না—লক্ষ্মীটি। রাগ করবে না আমার ওপর । তোমার ক্ষেতি লোকসান করতেই আমি আছি। বিমলা নিঃশব্দে কাদতে লাগল । একবার অতুলের মনে হল সব কথা স্ত্রীকে মনে করিয়ে দেয়। বলে, ভেবে না, লক্ষ্মীটি —ঠাট্টা করছিলাম। টাকা যে সেই তুমি আমার হাতে— কিন্তু তখনই ভাবলে, হবে হবে—এর পরে দেব। এই ধাকটা সামলে নিই তো । সামান্ত টাকা, দিলেই হবে এর পরে। & ভাদ্র মাস পড়বার আগেই ঘুঘু-ডাকা মুদীর্ঘ শ্রাবণের এক দ্বিপ্রহরে নৌকাযোগে সে তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ী রেখে এল। এত বড় অমুখ থেকে উঠল, বাপ-মায়ের কাছে একবার যাওয়া উচিত । বিমলা আর ফেরে নি । 屬 শীতের প্রথমে সামান্ত জর থেকে দাঁড়াল নিউমোনিয়া, দুৰ্ব্বল শরীর সামলাতে পারলে नैतः সে ধাক্ক। অতুলের সঙ্গে দেখাও হয় নি শেষ সময়টা । স্বামী—বা দু-পাচটা সঞ্চিত টাকা যা পাউতারের কোঁটোটাতে ছিল নিজের তোরঙ্গটাতে—সব ফেলে রেখে চলে গেল । এর পর সাত বৎসর অতীত হয়ে গিয়েছে । অতুলের বয়সও ভাটিয়েছে, মাথার চুলে পাক ধরেছে, দেখলেই মনে হবে যৌবন বিদায় নিয়েছে কিছুকাল আগে। এখন রাস্তার কনট্রাক্টরি করে হাতে দু পয়সা করেছেও। আগের চেয়ে অবস্থা ঢের ভাল । গ্রামের মধ্যে একজন সঙ্গতিপন্ন লোক সে বর্তমানে। এবার স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টও নিৰ্ব্বাচিত হয়েছে । শীতকালের দিন । সে বসে চৌকিদারের মাসিক বেতনের বিল পরীক্ষা করছে, এমন সময়ে পাশের ঘর থেকে সরোজিনীর (তৃতীয়পক্ষের স্ত্রী ; দুটি ছেলে ও একটি মেয়েও হয়েছে) উত্তেজিত কণ্ঠস্বর শোনা গেল । —শোন শোন, শীগগির ইদিকে এস তো ? দেখ দেখ— কি না জানি বিপদ ঘটেছে ভেবে অতুল ছুটে গিয়ে দেখল স্ত্রী ঘর পরিষ্কার করতে করতে পৈতৃক আমলের যে বাক্সটাতে সাবেক আমলের জমিজমার খাত, পুরোনো চেকদাখিলা, কাগজপত্র ইত্যাদি আছে তার মধ্যে থেকে কীটদষ্ট বিবর্ণ একটা নেকড়ার পুটুলি বার করে হাতে তুলে ধরে বলছে, এই দেথ । আজ ভাবলাম পুরনো বাক্সট ঝেড়ে-ঝুড়ে সাফ করি, কাগজপত্তরের ভেতর এই দেখ কি ছিল। কি বল তো এটা ? বোধ হয় টাকাকড়ি। খুলে দেখি দাড়াও । পরে ক্ষিপ্ৰহস্তে পুটুলির গেরো খুলে বললে, দেখ দেখ–টাক আর খুচরো ! দাড়াও 感