পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার ゲふ আনন্দপূর্ণ উত্তেজিত কণ্ঠে সে গুণতে লাগল—এক, দুই, তিন, চার, পাচ—ও দেখি— গোণা শেষ করে খুশির দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে চেয়ে বললে, একিন্তু আমি দেব না। কর্তাদের আমলের রাখা নিশ্চয়ই। এতদিন তোমরা তো কেউ পাও নি। একখানা রুমালে বাধা—দেথ না ? অতুল চিত্রাপিতের মত দাড়িয়ে ছিল এতক্ষণ। অনেকদিন আগেকার একখানা জরদীপ্ত আরক্ত মুখ ছেলেমামুষের মত লোভাওঁ দৃষ্টি:এক বর্ষার মেঘমেদুর দিন: প্রাবণ মাস- i সে শুধু কলের পুতুলের মত বললে, কত আছে বললে ? সরোজিনী হেসে ঘাড় দুলিয়ে দুলিয়ে বললে, আঠার টাকা সাত আন । এ আমি আর দিচ্ছি নে ! আমি পেলাম, এ আমি নেব । সুহাসিনী মাসীমা মুহাসিনী মাসীমাকে আমি দেখি নি। কিন্তু খুব ছোট বয়সে যখনই মামার বাড়ী যেত্নম, তখন সকলের মুখে মুখে থাকত মুহাসিনী মাসীমার নাম। —মুহাস কি চমৎকার বোনে! এই বয়েসে কি সুন্দর বুহ্বনির হাত । —মুহাসিনী বললে, এস দিদি ব’স । বেশ মেয়ে মুহাসিনী । —সেবার মুহাসিনীকে নেমন্তয় করে খাওয়ালুম পূর্ণিমার দিন। —মুহাসিনী ওসব অনেয্য দেখতে পারে না, তাই জন্তে তো মায়ের সঙ্গে বনে না। সুহাসিনী গ্রামের সকলের যেন চোখের মণি । মুহাসিনী মাসীমা সম্বন্ধে কথা বলবার সময় সবারই অর্থাৎ আমার বুড়ী দিদিমার, গল্প দিদিমার, মাসীমাদের, মায়ের, মামাদের গলার মুর বদলে যেত, চোথে কি রকম একটা আলাদা ভাব দেখা যেত। আর একটা কথা। রূপের কথা উঠলে সকলেই বলত আগে সুহাসিনী মাসীমার কথা, অমন রূপ কারও হয় না, কেউ কখনও দেখেনি। শুনে শুনে আমার মনে অত্যন্ত কৌতুহল হল যে, মুহাসিনী মাসীমাকে একবার দেখব। দেখতেই হবে । দিদিমাকে একদিন বললুম, মুহাসিনী মাসীমা এখানে কোথায় থাকেন ?

  • —কেন রে ? 尊 —আমি একদিন দেখতে যাব । —সে ভোর ওই কনাই মামার বোন ওপাড়ার। মুখুজ্যেদের দোতলা বাড়ী পুকুরধীরে দেখিসনি ? তা মুহাস তো এখন এখানে নেই। শ্বশুরবাড়ী গিয়েছে।

—বিয়ে হয়ে গিয়েছে বুঝি ?