পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సెళి বিভূতি-রচনাবলী —ত হবে না ? উনিশ-কুড়ি বছর বয়েস হল, বিয়ে কোন কালে হয়েছে। সুহাসিনী মাসীমার বিয়ে হওয়ার কথাটা যেন খুব ভাল লাগল না । কেন ভাল লাগল না তা কি করে বলব। আমার বয়স ন বছর আর মুহাসিনী মালীমার বয়স উনিশ-কুড়ি ; বিয়ে হলেই বা আমার কি, না হলেই বা আমার কি। মামার বাড়ীতে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ছুটিতে যাই, কিন্তু কোনও বার মুহাসিনী মাসীমার সঙ্গে আমার দেথা হয় নি। হয় তিনি বৈশাখের মাঝামাঝি চলে গিয়েছেন, নয়তো তিনি আসবেন শ্রাবণ মাসে শ্বশুরবাড়ী থেকে । —কাত্তন মাসে এসেছিল সুহাস, বোশেখ মাসে চলে গেল। আজকাল থাকে ভাল জায়গায়। যেমন রং, তেমনিই রূপ, যেন একেবারে ফেটে পড়ছে । অন্ত লোকের প্রশ্নের উত্তরে দিদিমা কিংব। আমার মাসীমারা এ ধরনের কথা বলতেন, শুনতে পেতাম। আমি কোনও প্রশ্ন এ-সম্বন্ধে বড় একটা করতুম না, অথচ ইচ্ছে হত মুহাস মালীমার সম্বন্ধে আরও অনেক কিছু জানবার, আরও অনেক কথাশোনবার। কিন্তু কেমুন যেন লজ্জায় গলার কথা আটকে যেত, জিগ্যেস করতে পারতুম না । —ন, তা কি করে থাকবে, মুহাসিনী না হলে শ্বশুর বাড়ীর একদিন চলে না—কাজেই চলে যেতেই হল, নইলে জষ্টি মাসে অাম কাটাল খেয়ে যাবার তো ইচ্ছে ছিল। শাশুড়ি বলে—বেীমা এখানে না থাকলে যেন হাত পা আসে না—বৌমার মুখ সকালে উঠে না দেখলে কাজে মন বসাতে পারি নে —তাই ছেলে পাঠিয়ে নিয়ে গেল । —একদিন কি হল জান, দুপুরবেলা মুহাসের ফিট হয়েছে শুনে তো ছুটে গিয়ে দেখি রান্নাঘরের সামনে সানের রোয়াকে মুহাস অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে—আর তার মাথায় জল ঢালা হচ্ছে। মাথায় একরাশ কালো কুচকুচে ভিজে চুল, দেহ এলিয়ে পড়ে আছে। অমন রূপ কখনও দেখি নি মানুষের, কি রূপ ফুটেছে মুহাসের—সত্যি— মুহাস মাসীমার রূপের ও গুণের প্রশংসায় এই গ্রামের সবাই পঞ্চমুখ। তারা জীবনে যেন এমন মেয়ে আর দেখে নি। ওদের মুখে মুখে মুহাসিনী মালীমাও আমার মনে অত্যন্ত বেড়েই বললেন—কল্পনায়, চোখের দেখায় নয়। অল্প বয়সে যখন মনের আকাশ একেবার শূন্ত, তখন লোকের মুখে শুনে শুনে ধীরে ধীরে একটি আদর্শ নারীমূৰ্ত্তি আমার মনে গড়ে উঠেছিল—বহুকাল পর্যন্ত এই মানসী নারীপ্রতিমার কষ্টিপাথুরে বাস্তবজীবনে দৃষ্ট সমস্ত নারীর রূপ ও গুণ যাচাই করে নিতাম, অনেকটা নিজের অজ্ঞাতসারেই বোধ হয়। সে মানসী প্রতিমা ও আদর্শ নারী ছিলেন সুহাসিনী মালীমর্যাকে কখনও চোখে দেখলুম না । 鹼 藝 তখন কলেজে পড়ি। কি একটা ছুটিতে মামার বাড়ী গিয়েছি৭ • তখন অনেকটা গভীর হয়ে পড়েছি আগেকার চেয়ে এবং রান্নাঘরের কোণে বসে দিদিমা ও মালীমাদের মুখে মেয়েলি গল্প শোনার চেয়ে চণ্ডীমণ্ডপে মেজ দ্বাস্থ ও মামাদের সঙ্গে জাৰ্ম্মান যুদ্ধের আলোচনা ও সে