পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विधू माझेब्र ఫి(! নারায়ণ চৌধুরীর প্রাসাদ নিঃশবে দাড়াইয়া আছে। নদীস্রোতের অবিরাম আঘাতে সে প্রাসাদের অনেকখানিই ভাঙিয়া চুরিয়া কোন অনির্দেশের পথে বহিয়া, গিয়াছে। অতীতের সাক্ষ্যস্বরূপ যাহা এখনও বর্তমান আছে, তাহা সেই হতগৌরবের কঙ্কালবিশেষ ; এখন যেন, সেখানে সেই দুৰ্দ্দাস্তপ্রতাপ প্রতাপনারায়ণ চৌধুরীর প্রেতাত্মা বিরাজ করিতেছে। প্রকৃতি তাহাকে আজ নিজের হাতে সাজাইয়া দিয়াছে, অনাড়ম্বর সৌন্দৰ্য্য তাহকে শুামল করিয়া রাখিয়াছে। গঙ্গার বক্ষে একটি নৌকা পাল তুলিয়া পাশ দিয়া বহিয়া চলিয়াছিল। একটি মাঝি গান গাহিতেছিল । তাহার সেই ক্লাস্ত কণ্ঠস্বর সন্ধ্যাপ্রকৃতির নিঃশবতার বক্ষ চিরিয়া চিরিয়া কোন দূরান্তরের এক অপূৰ্ব্ব সাড়া বহিয়া আনিতেছিল। পলাশপুরের প্রতাপনারায়ণ চৌধুরীর নাম শোনে নাই এমন লোক খুব কমই আছে। একদাৰ্তাহার প্রতাপে সারা পলাশপুর তটস্থ হইয়া থাকিত । কিংবদন্তী আছে যে সেকালে নাকি বাঘে গরুতে নিৰ্ব্বিবাদে একই ঘাটে জল পান করিত। অতবড় ক্ষমতাশালী বর্ধিষ্ণু প্রতিপত্তিশালী জমিদার সেকালে খুব কমই ছিলেন। ইংরেজ-রাজত্বের স্বচনার দিন হইতে পলাশপুরের চৈৗধুরী-বংশের উদ্ভব। ইংরেজ-বাহাদুরকে সৰ্ব্বপ্রকার সাহায্য করার পুরস্কার-স্বরূপ ধূর্জটিনারায়ণ চৌধুরী এই পলাশপুরের জমিদারি লাভ করেন। ধূর্জটনারায়ণ চৌধুরী চৌধুরীবংশের আদিপুরুষ। তারই পৌত্র বিজয়নারায়ণ চৌধুরী সিপাহী-বিদ্রোহের সময়ে বারাকপুরের বিদ্রোহদমনে ইংরেজদের যথেষ্ট সহায়তা করেন। তাহারই প্রচেষ্টায় ক্যাপ্টেন লরেন্স সপরিবারে আত্মরক্ষা করিতে সমর্থ হন। ইতিহাসে সেসব কথা নাই বটে তবে সকলেই সে কথা জানিত। ১৮৫৭ সালের মার্চ মাসের শেষদিকে যখন দুৰ্য্যোগের ঘনঘটা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক আকাশ কালো করিয়া দিয়াছিল, বিজয়নারায়ণ সে সময়ে বারাকপুরে। সেদিনও এমন ছিল। ক্যাপ্টেন লরেন্স বিজয়নারায়ণ চৌধুরীর কৰ্ম্মকুশলতায় তাহাকে স্বীয় তরবারি উপহার দিয়াছিলেন। বহুকাল সেই তরবারি চৌধুরী বংশের প্রাচীরে অতি সম্ভপণে অতীতগৌরবের চিহ্নস্বরূপ টাঙানো ছিল। বেলেডাঙার কমল হালদারের সঙ্গে গ্রীষ্মের ছুটিতে তার দেশে গিয়াছিলাম বেড়াইতে । সন্ধ্যাকালে গঙ্গার তীরে ভ্রমণ করিতে করিতে পলাশপুরের চৌধুরীবাড়ীর নিকট আসিয়া পড়িলাম। কমল বলিল, এই সেই প্রতাপনারায়ণ চৌধুরীর বাড়ী। ইতিপূৰ্ব্বে চৌধুরীবংশের অতীত কাহিনীর আমি অনেক কিছুই শুনিয়াছি। তাহাঁদের সেই বিরাট প্রাসাদের এই দুর্দশা দেখিয়া বাকৃশুন্ত হইয়া গেলাম। এখন মানুষ সেখানে বাস করে না। সেটি এখন হিংস্র পশুর লীলাভূমি হইয়া দাডাইয়াছে। বিজয়নারায়ণ চৌধুরীর পুত্র প্রতাপনারায়ণ চৌধুরীর সময় চৌধুরীবংশের গৌরব চরমে উঠিয়াছিল। চতুর্দিকে চৌধুরীবংশের প্রতিপত্তি ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। প্রতাপনারায়ণের সময়ে যেমন চৌধুীবশের গৌরব চরমে উঠিয়াছিল, সেই প্রতাপনারায়ণের সময়েই তাহার আবার ভাঙন শুরু হয়। অমামুৰিক দুশ্চরিত্রতা ও প্রচুর মকদ্দমার ফলে তাহার পতন শুরু