পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిసి বিভূতি-রচনাবলী k. হয় মৃত্যুর কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বেই। ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালে মোগলসাম্রাজ্য যেমন চরম সীমায় উঠিয়াছিল, সেই ঔরঙ্গজেবের রাজত্বকালেই আবার তাহার পতন শুরু হয়। বৃদ্ধ সম্রাট বহু দুঃখেই দূর দক্ষিণাপথে প্রাণত্যাগ করেন। ঔরঙ্গজেব ছিলেন চরিত্রবান ও ধাৰ্শ্বিক, আর প্রতাপনারায়ণ ছিলেন ঠিক তাহার বিপরীত। তাহার অভিধানে চরিত্র বলিয়া কোন শব্দ ছিল না। মদ ও মেয়েমানুষ তাহার জীবনের একমাত্র উপাস্ত। আর এ ছাড়া যেটুকু সময় পাইতেন তাহাতে মামলা-মকদ্দমার তদবির করিতেন। তাহার স্তায় নিখুত ভাবে মকদম তদবির করিতে সেকালে খুব কম লোকই পরিত। অথচ লেখাপড়ার তিনি ধার ধারিতেন না, আইন তো দূরের কথা। কত সতীরমণীর আওঁফ্রন্নে নি:শবরাত্রে চৌধুরীবংশের সুদীর্ঘ রঙমহল যে ধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছিল তাহার ইয়ত্ত নাই। তাহদের সেই ব্যাকুল কণ্ঠধ্বনি ঝিল্লীরবের সহিত তালে তালে শদিত হইয়া মরিতেছে। তাহাদের বিকট অট্টহাস্ত হয়তো এখনও ভগ্নপ্রসাদের প্রাচীরে আঘাত খাইয়া খাইয়া ফিরিতেছে। তিনি বিবাহ করিয়াছিলেন ক্ষীরোদামুন্দরীকে আর ভালবাসিয়ছিলেন পত্নীর বিধবা ভগিনী আভ্যময়ীকে। ক্ষীরোদামুন্দরীর প্রতিবাদ করিবার সাহস হয় নাই । আর বালবিধবা আভাময়ী প্রতাপনারায়ণের প্রেমের তরঙ্গে সংক্ষুব্ধ হইয়া আত্মীয়স্বজনের বিষদৃষ্টি হইতে আত্মগোপন করিবার জন্য উদ্বন্ধনে প্রাণত্যাগ করেন। এ ঘটনার পর প্রতাপনারায়ণ আর ক্ষীরোদামুন্দরীর মুখদর্শন করেন নাই। সেই অভাগী রমণী চার মাসের শিশুপুত্র স্বৰ্য্যনারায়ণ চৌধুরীকে বুকে লইয়া স্বামীর দৃষ্টিপথের অন্তরালে জীবন কাটাইয়া দিতে লালিলেন। আর প্রতাপনারায়ণের উচ্ছৃঙ্খলতার মাত্রা গেল বাডিয়া । তিনি বাহির-বাড়ীতেই দিন কাটাইয়া দিতে লাগিলেন। অভিাময়ীর প্রতি সমাজের এই অসহনীয় অত্যাচারেব প্রতিকার-স্বরূপ তিনি তাহার প্রজাদের শাস্তির সংসারে দিতে লাগিলেন আগুন জালাইয়া। গৃহস্থবধু বা গৃহস্থকন্ত তাহার ক্ষুধিত দৃষ্টি হইতে অতিকষ্টে আত্মরক্ষা করিত। সারাদিন পথে পথে পাখীমার বন্দুক কঁধে লইয়া পাখী মারিয়া ফিরিতেন। সে পথে কোন স্ত্রীলোকের বাহির হইবার সাহস ছিল না। আর র্তাহার সঙ্গে থাকিত কানা কালু সর্দার। কানা হইলে কি হয়, চক্ষুষ্মানকেও সে হার মানাইতে পারিত। তাহার তীক্ষ্ণবুদ্ধির বলে প্রতাপনারায়ণের ক্ষুধা নিবৃত্ত হইত সহজেই। ইংরেজ-রাজত্বের এমন ধরাবাধা আইন তখন ছিল না। প্রতাপনারায়ণের মহল্লায় তাহার বিখ্যাত লাঠিয়ালদের দৌলতে কাহারও টু শকুটি করিবার সামর্থ ছিল না। লাঠির জোরেই রাজ্যজয় হইত আর লাঠির জোরেই রমণীর সতীত্বলুণ্ঠন হইত। কিন্তু প্রতাপনারায়ণ স্ত্রীলোকদের ঘৃণা করিতেন সৰ্ব্বাস্ত:করণে। নারী নরকের দ্বার। এই নারীই তাহার জীবনে দিয়াছিল দাবানল জালাইয়া। সেবার দুরন্ত বর্ষার এক অবিশ্রাস্ত ধারাপত্তনের দিনে কালু কোথা হইতে এক অজ্ঞাতনাম রমণীকে বহিয়া আনিল । রাত্রি তখন দশটা। চারিদিকে সেই বৰ্ষাপ্রকৃতির গুঞ্জন কোন এক বিরহিণীর আর্ভক্রমনের ন্যায় ধ্বনিত হইতেছিল। কাহাকে হারানোর বেদনা যেন সারা বিশ্ব মধিভ করিয়ারাধিয়াছিল। প্রতাপনারায়ণ তখন মুর্খা দিয়া তাহার নয়নপ্রান্তে রেখাপাত