পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S8 বিভূতি-রচনাবলী পুষ্প তাকে প্রণাম করে বিনীতভাবে বল্লে—আপনার দেখা আবার কবে পাবো ? —যখন স্মরণ করবে। একমনে স্মরণ করলেই আসবো—কিন্তু যখন তখন আমায় কষ্ট দিও না। আমার নানা কাজ, কোথায় কথন থাকি। কল্প-পর্বতে সঙ্গীত যেদিন বাজবে, চুম্বকের ঢেউ কম থাকবে, সেদিন আমায় ডেকো । কল্প-পর্বতের সঙ্গীত কি, পুষ্প তা জানতে । চতুর্থ স্তরে একটি স্বনির্জন পাহাড়ে বহু শতাব্দী ধরে এক নির্দিষ্ট সময়ে আপনা-আপনি অতি মধুর অপার্থিব সঙ্গীতধ্বনি ওঠে । কত কাল পূর্বে জনৈক পবিত্র আত্মা ঐ স্থানটিতে বসে নূতন স্বর স্বষ্টি করতেন—কোনো বড় স্বরশিল্পী হবেন। ওপরের স্বর্গে উঠে গিয়েচেন বহুকাল, কেউ তাকে এখন আর দেখে না—কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময়ে এখনও তার স্বই সুরপুঞ্জে স্বৰ্গমণ্ডলের অজ্ঞাত কোণটি ছেয়ে যায়। দেবতা বিদায় নিলেন—বহুদূরব্যাপী নভোমণ্ডল জ্যোতির্ময় হয়ে উঠলো তার দেহজ্যোতিতে । তিনি অদৃষ্ঠ হয়ে যাবার পরেও যেন খানিকক্ষণ আকাশটা আলো হয়ে রইল । পুষ্প অবাকু হয়ে সেদিকে চেয়ে রইল। এত বড় দেবতা এতদিন এখানে থেকেও কখনো সে দেখে নি । q যতীনের চেতনা ফিরে এল বাড়ীতে ফিরবার পথেই । পুষ্পকে বল্লে—এ কোথায় যাচ্চি আমরা, এখনও পৌছুই নি ? পুষ্প বল্লে—না, চলে বাড়ী ফিরে যাই । সেখানে এখন তোমার যাওয়া চলবে না। তুমি পথে এমন হয়ে পড়লে! চতুর্থ স্তর পার হতে না হতেই তোমার সংজ্ঞ চলে গেল। পঞ্চম স্তরে নিয়ে যাই কি করে ? উঃ, একটা অদ্ভুত জিনিস তুমি দেখলে না ! তারপর পুষ্প সবিস্তারে উন্নত আত্মাটির সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে। বল্লে— আমার বড় ইচ্ছে ছিল তুমি দেখতে পাও, কিন্তু বুঝলুম তিনি এখন তোমায় দেখা দিতে ইচ্ছুক নন । তুমি দেখতে পাবেও না । যতীনের মনে পড়লো তার মায়ের সঙ্গে যেদিন কথা বলছিল আকাশের দূর প্রান্তে অমনি একটা অদৃষ্টপূর্ব জ্যোতিল্লেখ দেখা গিয়েছিল, পুষ্প যেমন বর্ণনা করলে তেমনি । পুপকে সে কথা বল্পে । পুষ্পকে বল্পে -আমি জানি, ও আলোসব সময়ই উচ্চ আত্মাদের, র্যাদের আমরা দেবতা বলি, তাদের গতিবিধির পথে দেখা যায়। উস্কার মত উজ্জল হয়ে ওঠে তাদের পথ, যখন তারা যান। অত শুদ্ধ আত্মা কিছু আমাদের স্তরে কমই আসেন; খুব কমই দেখা যায়। —দেখ পুষ্প, আমি তোমার এখানে এসে ভাবতুম কত উচু স্তরেই এসেচি! আজ আমার সে অহঙ্কার ভেঙে গেল। অত সব উচু স্তর আছে, তা কি জানতাম ! পুষ্প হেসে গড়িয়ে পড়ে আর কি। বল্পে—এ কথা তো কখনো শুনিনি! তুমি ভাবতে আমাদের এই বুঝি বৈকুণ্ঠধাম ? তবে তুমি নতুন এসেচ পৃথিবী থেকে, তোমার দোষ কি, যারা