পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছায়াছবি & নি তুই বিশ্রাম করে আমরা আবার মোটর ছাড়লুম। বাকি পথটুকু বেশ কাটলে। সে বর্ণনা বিস্তৃতভাবে করবার কোনো বিশ্বৰ দেখি না। কোহালায় পৌঁছুলাম দিল্লী থেকে রওনা হবার তিন দিন পরে সন্ধ্যার দিকে । মেট, থামিয়ে কোহালীর বাজারে একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে বসলাম দু-জনে। গাড়ীতে রইল ক্লিনার স্বামীন ও ভৃত্য নাথু বাগ। শেষোক্ত ব্যক্তির নামটি অবাঙালীর মত শোনালেও প্রকৃতপক্ষে ওর বাড়ী মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমায এবং সে বাঙলা ছাড়া অন্য প্রদেশের ভাষা জানে না । চা পানের সময় দোকানদারকে আমাদের রাত্রির জন্যে একটু বিশ্রামস্থানের সন্ধান দিতে বললাম। সে দু-একটা সন্ধান দিলে। বড় পরিশ্রান্ত ছিলাম সেদিনটা । রাত্রিটাতে একটু ভাল ঘুমের দরকার। নাথুকে গাডিতে বসিয়ে রেখে (কারণ তার দ্বারা এ বিষয়ে কোনো সাহায্যই পাওয়া সম্ভব নয় ) রামদীন ক্লিনারকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বাসার সন্ধানে বার হই । রতিকান্ত বললে–গাড়ীর একটা আস্তানাও তো খুঁজতে হবে? • আমি বললাম—খুজে পেলে ভাল হ্য। বাইরে বেজায় ঠাণ্ডা। নাথু তো শীতে জমে যাবে গাড়ীতে থাকলে বাইরে । , —রামদীন বরং পারে । রামীন বললে—হামারা ওয়াস্তে কোই পরোয় নেহি হজুৱ— কিন্তু বাসা কোথাও পাওয়া গেল না । কোহালা বড় জায়গা নয়। বাজারের সরাইগুলো পাঞ্জাবী ড্রাইভারের ভিড়ে পরিপূর্ণ। একখানা দোকানের পেছন দিকে একটা ঘর আছে বটে, দোকানদার দেখালে –কিন্তু সে ঘর এত অপরিষ্কার ও আলোবাতাস-হীন যে, সে ঘরে রাজি কাটানো আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাছাড়া সে ঘরে বিশ্রাম করতে গেলে মোটর বাইরে পড়ে থাকে। রামদীন মুখে বলেছে বলেই তাকে হিমবধী রাত্রে বাইরে গুইয়ে রাখা যায় না । রতিকান্ত বলল্লে—উপায়? আমি এর আর কি উপায় বলবো । q পরামর্শ করা গেল সেই চায়ের দোকানীর কাছে আবার যেতে হবে। তাকে গিয়ে এমনভাবে ধরা হোল যেন এই পার্বত্য দেশে সে-ই আমাদের একমাত্র রক্ষক ও অভিভাবক। তারই মুখ চেয়ে আমরা বাড়ী থেকে এই দু-হাজার মাইল রাস্তা অতিক্রম করে এসেচি। ২ দোকানদার লোক তালো। সে বলে দিলে বাজারের পেছন দিয়ে যে পথটা ছোট্ট পাহাডট ডিঙিয়ে চলে গেল, ওরই ওপারে এক বৃদ্ধ জাঠের বাড়ী। সে বাড়ীতে অনেক সময় লোকজনদের पञांeंध cग्न । আমরা, দু-জনে দোকানদারদের কথামত সেখানে গেলাম। বাড়ীখানা কাঠের দোতলা। দেখে মনে হয়, এক সময়ে বাড়ীর মালিকের অবস্থা ভালই ছিল ।