পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పిచి বিভূতি-রচনাবলী লোকের সঙ্গে লড়াই করিয়া দুটিকে খুন করিয়া রাখিয়া আসিয়াছে। ভৈরব ডাকাতের নাম করিয়া এদেশে মায়েরা দুষ্ট ছেলেদের ঘুম পাড়ায় । ভৈরব ডাকাত যে কোথায় থাকে তাহার কোনো নিশ্চয়তা নাই। আজ এ গ্রাম, কাল ও গ্রাম । গ্রামবাসীদের সাধ্য কি যে তাহারা পুলিশে খবর দেয় ? কে অকারণে প্রাণ হারাইতে চায় ? ভট্টাচাৰ্য্য মশাই নিরীহ, ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত মানুষ । কখনো কোনো গোলমালের মধ্যে থাকেন নাই জীবনে। শুধু শাস্ত্রপাঠ ও পূজাৰ্চলায় দিন কাটাইয়া আসিয়াছেন। একি বিপদ তাহার জীবনে আজ অকস্মাৎ আসিয়া উপস্থিত, তিনি কোনো কথা বলিলেন না। চুপ করিয়া শুধু চাহিয়া রহিলেন লোকটার দিকে। বাঘের সামনে হরিণের চোখের মত সম্মোহিত দৃষ্টি তার চোখে । দম্য আবার বলিল—বলি কানে গেল না কথা ঠাকুর মশাই ; সিধে নিতে হবে তোমাকে— রাধতে হবে । ঠিক এই সময় দু-জন লোক একটি বৃহৎ কাঠের বারকোশে সিধা বহন করিয়া বটতলায় আনিয়া হাজির করিল। একটি রুই মাছ, আলু, পটল, বেগুন, পাকা কলা, স্বন্দেশ, দই প্রভৃতি বারকোশে সাজানো। অগ্রবর্তী লোকটা ট্যাক হইতে দশটি টাকা বাহির করিয়া বারকোশে রাখিয়া বলিল —তোমার দক্ষিণে ঠাকুর মশাই। এই সব নাও। নিয়ে রাধে, খাও, আমাদের একটু পেসাদ দিলেই চলবে। টাকা দশটা চাদরের মুড়োয় বেঁধে নাও, ঠাকুর। ভট্টাচাৰ্য্য মশায় বোকার মত চাহিয়া রহিলেন মাত্র। কোনো কথা তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল না। লোকটা বলিল—কি, কথা কইচ না যে? এসব নেবে না ? ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের মুখে কোনো কথা নাই। লোকটা এবার রাগিয়া উঠিল। তাহার চোখ রক্তবর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। মুখ-চোখের ভাব কঠিন ও ভীষণ । বলিল—তবে রে বিটলে বামুন, তুমি ঘুঘু দেখেচ, ফাদ ছাখে নি ? সে হঠাৎ হাক দিয়া বলিল—আবদুল জব্বর— মমদূতের মত একজন আগাইয়া বলিল—কি হুকুম, সর্দার— —এই বামুনকে এককোপে কেটে বিলের জলে ভাসিয়ে দাও। ধরে এর হাত—দুলে ধর এসে এর পা— —এখুনিমুণ্ডু বটকে দেবো ? দা দিয়ে ? —এখখুনি। ওর বামনাগিরি এখখুনি ঘুচিয়ে তবে আমার নাম ভৈরব সর্দার— তারপর সে হাকিয়া বলিল—কেমন ? এইবার শেষ । ঠাকুর, শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করচি-সিধে নেবে ? নিতে রাজি হও । কেমন তো ? আবদুল জব্বরও রাজি হলেই ছেড়ে দেবে। কেমন রাজি ? بية ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় উহাদের কথা শুনিতে পাইতেছিলেন না। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের শুভ নবমীতে র্তাহার জন্ম। রামচন্দ্রের মত ।