পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ8 বিভূতি-রচনাবলী লেনের বয়েস ছাব্বিশ-সাতাশ । ওদের ডাক্তারখানা রাস্তার এপার-ওপার। রোগীপত্তর প্রায়ই থাকে না, দু-জনে বসে গল্প-সল্প করে । বয়সের তারতম্য যতই থাকুক, দু-জনে খুব বন্ধুত্ব। চন্দ্রনাথবাবু এসচেন খুলনা জেলার হলদিবুনিয়া থেকে আর শিশিরবাবু যশোর শহর থেকে | কাজকর্ম না থাকলে যা হয়ে থাকে, দু-জনে বসলেই তর্ক আর স্বস্ব। তর্কের বিষয়-বস্তু প্রধানতঃ মানুষের মৃত্যুর পর কি হয়, এই নিয়ে। চন্দ্রনাথবাবু বলেন—তাদের গ্রামের একজন সাধু ছিলেন, তিনি ভূত নামাতেও পারতেন। অনেকবার তিনি ভূতনামানো-চক্রে উপস্থিত ছিলেন, নিজের চোখে ভূতের আবির্ভাব দেখেচেন, ভূতের কথা শুনেচেন নিজের কানে। সাধুটি একজন বড় মিডিয়ম, তার মধ্যে নাকি ভূতের দল পৃথিবীতে নিজেদের প্রকাশ করে । শিশির সেন বলিল—রাবিশ ! চন্দ্রনাথবাবু বলেন—তোমার বলবার কোনো অধিকারই নেই এখানে ! তুমি ছেলেমান্থব, কতটুকু তোমার অভিজ্ঞতা ? {. 酸 —অভিজ্ঞতার কোনো দরকার হয় না, কমন-সেন্সের প্রশ্ন এটা • —কাকে বলচো কমন-সেন্স ? —মানুষ মরে গেলে আর বেঁচে থাকে না, কমন-সেন্স । মরা মানেই না-বাচা । —মরা মানে বৃহত্তর জীবনের মধ্যে প্রবেশ কর । —মরা মানেই না-বাচা । —মরা মানে জীবনটা বড় করে পাওয়া । — একদম বাজে । —দু-পাত সায়েন্স পড়ে ভাবচো খুব সায়েন্স শিখে ফেলেচে ? আসল সায়েন্সের কিছুই জানে; না, শেখে নি । বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহ। এ বছরের মত এমন গরম এখানকার বৃদ্ধ লোকেরাও সেখানে কোনোদিন দেখে নি । শিশির সেন বেলা সাড়ে পাচটার সময় এসে ডাক্তারখানা খুললেন । নাং, টিনের বারান্দা তেতে আগুন হয়েচে, এখনো ঘরের ভেতর বসা সম্ভব নয় । সামনের ধানের দোকানীকে বললেন–রাস্তাটাতে একটু জল ছিটিয়ে দিও অভয়—এখুনি লরা গেলে ধুলোয় চারিদিক অন্ধকার করে দেবে। —ও কোবরেজ মশায় ! -कि ? —বাইরে আস্কন না ! —যাই । —কতক্ষণ এলেন ?