পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছায়াছবি పి হঠাৎ মনে পড়ে গেল, কাল এই মেয়েটি রোগীকে দেখে চলে যাবার পরেই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। মনটা যেন খারাপ হয়ে গেল । মেয়েটি দেউড়ি দিয়ে বাড়ীর মধ্যে ঢুকলো দেখে আমার বুকের মধ্যেটা চুপ টিপ করতে লাগলো কেন কি জানি । কান খাড়া করে রইলাম বাডীর দিকে । 4 আরামে ঘুমুতে যাচ্ছিলাম কিন্তু বিছানা ছেডে চেয়ারে বসলাম। ঘডিতে ঠিক সে সময় বারোটা বাজলো । হঠাৎ দরজার কাছে কি শব্দ হলো ! মুখ তুলে দেখি, সেই স্ত্রীলোকটি একেবারে আমার ঘরের মধ্যে এসে দাড়িয়েচেন । বেশ স্বন্দরী, ধপধপে শাড়ী-পরা, চল্লিশের মধ্যে বয়েস, কপালে সি দুর। আমার মুখ দিয়ে কোনে কথা বেরুবার আগেই তিনি আমার দিকে আঙুল বাড়িয়ে হুকুমের স্বরে বলতে আরম্ভ করলেন—শোনো, তুমি এই ছেলেকে বাচাতে পারবে না, তুমি বাড়ী शां★e । • আমার মুখ দিয়ে অতি কষ্টে বেরুলো—কেন মা ? আপনি কে ? আমার শরীর যেন কেমন ঝিমঝিম করে উঠলে ! সমস্ত ঘরটা যেন ঘুরচে । কেন এমন হলো হঠাৎ কি জানি! তিনি এক দৃষ্টে আমার দিকে চেয়ে বললেন-শোনে, আগুন নিয়ে খেলা কোরো না। একে আমি নিয়ে যাবো । এ আমার ছেলে । ওর বাবা আবার বিয়ে করেচেন আমার মৃত্যুর পর । সৎমা ওকে দেখতে পারে না। বহু অপমান হেনস্থা করে । আমি সব দেখতে পাই। আমার স্বামী অনেক কথা জানেন না, কিন্তু আমি সব জানি। আমি আমার ছেলেকে নিশ্চয় নিয়ে যাবো। কাল রাত্রেই নিয়ে যেতাম, তোমার জন্য পারি নি। তুমি চলে যাও এখান থেকে। ওকে বাচাতে পারবে না । 尊 আমার সাহস ফিরে এল । হাত জোড় করে বললাম—ম, আমি বৈদ্য । আমার ধর্ম প্রাণ বাচানো । আমার ধর্ম থেকে আমি বিচ্যুত হবে না কখনোই । আমার প্রাণ যায় সেও স্বীকার। একটা প্রস্তাব আমু করি মা ! জমিদারবাবুকে সব খুলে বলি। অম্বখ সারবার পরে তিনি ছেলেকে যাতে কোনো তালে৷ স্কুলের বোর্ডিং-এ রেখে স্থান, এ ব্যবস্থা আমি করবো। এ যাত্র আপনি ওকে নিয়ে যাবেন না। যদি আবার ওর ওপর অত্যাচার হতে স্থাখেন, তখন নিয়ে যাবেন আর আমিও আসবে। না। দয়া করুন জমিদারবাবুকে । তিনি বড় ভালবাসেন এই ছেলেকে। 藝 . তিনি বললেন—বেশ তাই হবে। তবে যদি কোনো ভালো ব্যবস্থা না হয়, তবে এবার আমি ওকে নিয়ে যাবোই, মনে থাকে যেন । তখনই যেন সে মূর্তি মিলিয়ে গেল! সঙ্গে সঙ্গে আমার ডাক এল অঙ্গর থেকে, রোগীর অবস্থা খারাপ । C আমি তখনি ছুটে গেলাম। কাল যেমন অবস্থা ছিল, আজও ঠিক তাই। বরং একটু বেশি