পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર૭ বিভূতি-রচনাবলী দাড়িয়ে থেকেও কিছুতেই কিছু করতে পারলে না । কতবার ডাকলে—আশা, ও আশা, এই যে আমি, ও আশা—আশা ? আমি এসেচি তোমার সঙ্গে দেখা করতে । আশা ওকে টেরও,পেলে না। এমন কি মনেও কিছু অহুভব করলে না। পুষ্প বলে, আচ্ছা, এখন থাক । ওর মন এখন চঞ্চল অবস্থায় রয়েচে । যখন বিছানায় এসে শোবে, প্রথম তন্দ্রা আসবে, তখন মন হবে শাস্ত, স্থির, একাগ্র । সেই সময়ে সামনে দাড়িও । যতীন বল্লে—উহু, সে হবে না। ওর হারিকেন লণ্ঠন ঘরে সারারাত জালিয়ে ঘুমুনো অভ্যেস। সে আলোতে তো কোনো কাজই হবে না ! --আচ্ছা সে হবে এখন । তুমি সেজন্যে ব্যস্ত হয়ে না। আমি চেষ্টা করৰে এখন। ততক্ষণ যতীন পুপকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ীর বাইরে গেল। এই তার শ্বশুরবাড়ীর দেশ । প্রথমে সে যখন এখানে আসে তখন ওই মজুমদারের বাড়ীর চণ্ডীমণ্ডপে আরও পাড়ার পাঁচজন নতুন জামাইয়ের সঙ্গে পাশা খেলে তাস খেলে কত দুপুর সন্ধ্যা কাটিয়েছে। ওই সেই যদু ভড়ের পুকুর, যেখানে মস্ত বড় রুইমাছ ধরেছিল ছিপে, সেই প্রথম ও সেই শেষ । ওঃ, মাছটা ঘাটের ঐ পৈঠাটার ওপর পড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল জলে, ওরই বড় শালা, আশার ভাই ছেনি জাল দিয়ে মাছটা ধরে ফেলে। সে সব এক দিন গিয়েচে । হঠাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠলো—ওখানে কে দাড়িয়ে ? ওরা দুজনেই ফিরে চাইলে। যন্ধু ভড়ের ছেলে ঐশ ভড় গাড় হাতে পুকুরের ঘাটে নামতে গিয়ে ই করে অবাক হয়ে ওর দিকে চেয়ে আছে—হাত কুড়ি-পঁচিশ দূরে । পুষ্প বল্লে—তুমি পৃথিবীর ভাবনা খুব একমনে ভাবছিলে, তোমায় দেখতে পেয়েচে । পরক্ষণেই দেখা গেল শ্ৰীশ গাডু ঘাটে রেখে ওর দিকে এগিয়ে আসচে, সে যে পুষ্পকে দেখতে পাচ্চে না—সেটা বেশ বোঝাই গেল । তার বিস্মিত দৃষ্টি শুধু যতীনের দিকে নিবদ্ধ। পরক্ষণেই কিন্তু সে থম্কে দাড়িয়ে ভয়ে চীৎকার করে উঠলো। যতীন তো অবাক্ ভয়ে চীৎকার করে কেন ? সে বাঘ না ভালুক ? শ্রীশ ভড়ের গলার আওয়াজ পেয়ে ততক্ষণ তাদের বাড়ীর মধ্যে থেকে, পাশের নিমাই ভড়ের বাড়ী থেকে, ওর জ্যাঠামশাই নন্দ ভড়ের বাড়ী থেকে অনেক লোক ছেলেবুড়ে বেরিয়ে এল। সকলের সমবেত ভদ্র প্রশ্নের উত্তর শ্ৰীশ ইপিতে হাপাতে বল্লে—উ: কি কাণ্ড ! এমন তো কখনো দেখিনি ! সবাই বল্লে—কি, কি, কি দেখলি রে ীি —ওইখানে দাড়িয়ে ছিল সাদামত দিব্যি একজন মানুষ। যেমন ডেকেচি, অমনি মিলিয়ে গেল। বাপ-না রে বাপু, স্পষ্ট নিজের চোখে দেখলাম, তোমরা বলচো চোখের ভুল ! আমি কি গাজ খাই যে চোখের ভুল ? সবাই গোলমাল করতে লাগলো, দু-একজন সাহসী লোক এগিয়ে দেখতে এল লেবুগাছের আড়ালে কেউ লুকিয়ে আছে কিনা, যতীনের আশেপাশে যাতায়াত করচে অথচ সে আর পুপ সেইখানেই দাড়িয়ে ।