পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছায়াছবি లి) নানা কারণে তাকে বয়েন দার মুখের দিকে চাইতে হয়। রজবালি বিশ্বাস বললে, এ পর্য্যন্ত তার চিঠিগুলো ঠিকমতো বিলি করেচে গেীর, অমন পিওন জার হয় না । এইখানেই ইতি । আর কোনো কথা বর হয় না তার মুখ দিয়ে । ঘেষে উঠলো আর অসহায় ভাবে এদিক ওদিক চাইতে লাগলো। পরে হঠাৎ ধপ করে বসে পড়ে বক্তৃতার উপসংহার করলে। রামবিষ্ণু পাল বৃদ্ধ ব্যবসায়ী, সংলোক, গৌরকে তিনি বন্ধু বলে সম্বোধন করলেন । বালো গেীর পাঠশালায় তার সহপাঠী ছিল, এইটুকু মাত্র বললেন। আমি এক মানপত্র লিখে এনেছিলাম, তাতে গোঁর পিওনের সম্বন্ধে অনেক ভালো ভালে কথা বলা ছিল। মানপত্র পড়ে আমি গৌরের হাতে দিলাম। সভাপতি বরেন দা ঘুঘু লোক, সভার গতি কোনদিকে সে অনেকক্ষণ বুঝেচে । সভাপতির অভিভাষণে সে গোঁর পিণ্ডনের এমন সব গুণের বর্ণনা করে গেল, যা সম্পূর্ণ কুল্পনিক। গোঁর পিওন প্রকৃতই দেখলাম লজ্জিত হয়ে উঠেচে ওর সব কথা শুনে এবং বিশ্বত সে নিশ্চিতই হোতে, কিন্তু তার বিক্ষ-বোধের শক্তি আজ অনেকক্ষণ সে হারিয়ে ফেলেচে । গোঁর পিওন কিছু বলতে উঠে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললে। শুধু সে হাত জোড় করে সভার সকলের দিকে চেয়ে দু-তিনবার বললে—বাবুরা—বাবু!” তারপর সবাইকে করজোড়ে বারবার প্রণাম করে সে ধপ করে বসে পড়লো । এবার সভা ভঙ্গ হবে । ছোকরার দল অমনি গেয়ে উঠলো ঃ ‘তোমার বিদায় বেলার মালাখানি আমার গলে’ —ন, রবীন্দ্রনাথের গান চাই । বিনয়কে বললাম—খাইয়েচো ? C চাদনীর পাশে হরি ময়রার দোকানে হাত ধরে গোঁর পিওনকে নিয়ে যাওয়া হোল । গেল সে। সে চলে যাচ্ছিলো বাড়ীর দিকে । আমিও গেলাম ওদের পেছনে পেছনে । তা ছেলের আয়োজন করেচে ভালো । দুটাে ফজলে আম, দই, সন্দেশ, নিমকি। বড় রাজভোগ যে-কটা পারে গোঁর খেতে । খেয়ে কি খুশী বেচারি। চোখে তার প্রায় জল এসে গেল আবার । আমার দিকে চেয়ে সে বললে—এমন দিনডা যে হবে, তা ভাবি নি । সব আপনার কাও। আমি তা বুঝিচি। কি খাওয়াডাই খাওয়ালেন, কি ভালো কথাই বললেন আমার সম্বন্ধে। বুড় গুরুবল আমার। বললাম—খুনী হয়েচে গোঁর । —ওই যে বললাম বাবাঠাকুর । এমনধারা নিডা যে আমার আসবে তা--- ওর গলায় এখনো সেই ফুলের মালা ।