পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছায়াছবি 83 লুটিয়ে পড়তে, এটিও ফ্লার্ট টাইপের মেয়ে। মহামায়ার সঙ্গে একসঙ্গে আসতে, ওরই কি রকম বোন হয়, চপলা বন্দ্যোপাধ্যায় । দেখতে শুনতে মহামায়ার চেয়েও ভালো, কিন্তু বড় নিরীহ, ভালমানুষ, সাত চড়ে কথা বের হোত না। আর একটি গরীব ঘরের মেয়ে ছিল, ওর নাম বেলা চক্রবর্তী। মোটাসোটা, ফর্স সাদাসিদে স্বতীর শাড়ী পরে আসতো, সাদা • ব্লাউজ ফুল হাতী—সকলের সঙ্গে মিশতো সকলের সঙ্গেই হেসে কথা বলতো—বুদ্ধিশুদ্ধি একটু কম বলেই মনে হোত ! এদের সকলের বয়স উনিশ-কুডির মধ্যে । সেদিক থেকে আমরা প্রায় সকলে সমবয়সী, এক-আধ-বছরের বেশি বা কম, শকুন্তলা ছাড়া, তার বয়েস ছিল আমাদের চেয়ে তিন-চুর বছর বেশি । আমবা আডালে নিজেদের মধ্যে বলতাম -শকুন্তলাদি । যেমন হয়ে থাকে। ক্লাসমৃদ্ধ, ছেলে ঝুকে পড়লো মেয়েদেব দিকে । যে যার সঙ্গে জমিয়ে নিতে পারে, প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগলো। মাস দুই অগ্রসর হয়নি, ফাস্ট ইয়র এম-বি ক্লাস । এরই মধ্যে বেধে গেল প্রণয়ের জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঝগড়া, রেষারেষি । এক এক মেয়ের পেছনে চার-পাচটি বা ততোধিক ছেলে । থার্ড ইয়ার ক্লাসে সেবাব বিখ্যাত সুন্দরী ফিরিঙ্গি মেয়ে মিস ইভগুমে পড়তো—আমরা কলেজে ঢুকেই শুনি, মেডিকেল কলেজসুদ্ধ ছাত্র তার জন্ত পাগল। এই ফিরিঙ্গি মেয়েটির নাম চিরকাল লেখা থাকা উচিত মেডিকেল কলেজের অলিখিত ইতিহাসে । অন্তত: দুটি আত্মহত্যা ও বহু সংখ্যক উচ্ছন্ন যাওয়ার জন্যে এই মেয়েটি দায়ী । চার-পাচটি পিতার বিষয় পুত্র কর্তৃক সমৰ্পিত হয়েচে এই দেবীর বেদীমূলে অর্ঘ্যস্বরূপ। তবুও এর আকাজক্ষ মেটে নি! আমি মিস ইভষ্ঠামকে দেখলুম কলেজের বার্ষিক উৎসবে ছাত্রীদের গ্যালারিতে। এই প্রথম তাকে দেখি—খুব চটকদার মুন্দরী বটে। বয়েস বাইশের বেশি নয়। বিদ্যুৎলত । তবে আমি দূর থেকে দেখেছি এই পর্যন্ত। আরও অনেকবার দেখেচি, লম্বা করিডরের পাশ কাটিয়ে চলে যেতে—কিন্তু ফাস্ট ইয়ারের ছেলেদেব সঙ্গে কথা কইবার বা নড, করবার মত সহৃদয়ত মিস্ ইভস্যামের ছিল না । ফাস্ট বা সেকেও ইয়ারের কোনো ছেলেকে সে পুছতো না । কেনই বা পুছবে? তার স্তাবকবর্গের মধ্যে পাস-করা হাউস-সাজানরাও ছিল, উচু ক্লাসের ধনী ছাত্র ছিল, শোনা যায় দু-একজন অধ্যাপকও ছিলেন। 藝 আমি ছিলাম লাজুক ও গম্ভীর প্রকৃতির। আই এসসিতে স্কলারশিপ পাওয়ু ছাত্র। লেখাপড়া ছাড়া আর কিছু বুঝতামও না, মেয়েদের সসঙ্কোচে পাশ কাটিয়ে যেতেই চিরদিন অভ্যস্ত । লকুজ্জায় চোখ তুলে অপরিচিত মেয়েদের দিকে চাওয়া ছিল আমার পক্ষে মুকঠিন ব্যাপার। আজকার দিনের কথা নয়, কথা হচ্ছে আজ থেকে ছাব্বিশ বছর আগের। তখন মেয়েরা বেথুন কলেজ ছাড়া অন্ত কোনো কলেজে পড়তে না—আর পড়তে মেডিকেল কলেজে। মেয়েরা তখন অনেক ছাত্রের কাছেই অন্ত জাতের জীব বা দেবী-টেবী বলে গণ্য হোত । মেডিকেল কলেজে ঢুকে প্রথম সহপাঠিনীরূপে ওদের পেয়ে—ছাত্রলে যদি, বুকে পডেই