পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


9& বিভূতি-রচনাবলী এনেছিলে কেন আমার নোট-বই ? বেশ তো ? ঘরোয়ান এসে বললে—আইয়ে বাবু। ভিজিটার্স রুমমে বৈঠিয়ে । ভিজিটার্স রুমে বলতে বলে যে! তাহােলে নির্মলা চটেনি। না, তা কেন চটবে। চটবার “কি আছে এর মধ্যে | ভিজিটার্স রুমে গিয়ে বসবার একটু পরেই একখানা ফিকে নীলরঙের শাড়ী পরে স্যাগুলি পায়ে দিয়ে নির্মলা হাসিমুখে ঘরে ঢুকলো । পিঠে চুল খুলে এলিয়ে দেওয়া । ক্লাস থেকে ফিরে স্বান করেচে { ও ঘরে ঢুকে বললে—কি ব্যাপার? আপনি যে হঠাৎ ? 蔓 আমার মনের অবদমিত আবেগ যেন উত্তাল হয়ে উঠলো বুকের মধ্যে। এখানে তো কেউ নেই। নির্মলা—নির্মলা সরকার আমার সামনে। শুধু দু-জন এই ঘরের মধ্যে। কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই । বলে ফেলি। এমন সুযোগ জীবনে আর আসবে না । দেড় বৎসরের মধ্যে মহা প্রতীক্ষিত সেই পরম শুভ মুহূর্তটি আজ সমাগত এই মেয়েদের হোস্টেলের নির্জন ভিজিটার্স রুমে । ছেড়ে না এ স্থযোগ । যা হয় হবে। হয় এস্পার—নয় ওস্পার । g %. আমি ওর চোখের দিকে চাইলাম। নির্মলাও আমার চোখের দিকে দেখি চেয়ে আছে । আমার মনে হোল, অবত আমার ভুল হোতে পারে তবে আমার আজও তাই ধারণা—যে ওরই চোখে সেদিন প্রতীক্ষার দৃষ্টি দেখেছিলাম। অতি অল্পক্ষণের জন্যে একথা আমার মনে হয়েছিল। তার পরেই ওর দিকে চেয়ে আমি বললাম-নোট-বইখানা নিতে এসেচি– ! 6 س —কাল একবার ভেবেছিলুম আসবে,— নির্মল আবার যেন প্রতীক্ষা ও আহানের দৃষ্টিতে আমার দিকে চাইলে । দেবীর মত রূপ। কি উজ্জল মুখ-চোখ, কি ঢেউ খেলানো কালো মেঘের মত একরাশ চুল। অপূর্ব রূপ ফুটেচে ওর। আমি চেয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। কেন চোখ নামিয়ে নিলাম ?. আজ আমার মনে হয় আমি ভুল করেছিলাম। মেয়েদের রূপ পুরুষের পূজোর জন্তে নয়। তাকে আকৃষ্ট করবার জন্যে। নির্মলা আশা করে এসেছিলো সেদিন । ওর আশা আমি ভঙ্গ করেছিলুম সেদিন— নিজের ভীরুতার জন্তে । ও বললে—তবে এলেন না কেন ! —আসতে পারি নি শেষ পর্যন্ত, কাজ ছিল । আর একটি আশ্চর্য কথা ও বললে । সে কথা ও যে আমাকে বলবে এমন আশা করি নি । তবুও বলি, এ কথার গুরুত্ব তখন তত বুঝি নি, পরে যত বুঝেছিলাম। ও বললে—কাজ থাকলে বুঝি আমার কাছে আসা যায় না ? আমি শুধু বোকায় মত হাসলাম । নির্মলা আৰার বললে—বলুন না ?