পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ছায়াছৰি && ভালু বিশ্বয়ে নির্বাক হইয়া গেল। এতবড় সাপ হয়, কেউ কখনো শোনে নাই। স্বন্দরবনের কাগুই আলাদা ! সত্যই কি আশ্চর্য দেশ । বুড়ে মাঝি গল্প করিতে লাগিল—সেবার স্বন্দরবনে স্ব দরি কাঠ ‘ਬ(ਜਿ গিয়েছিলাম । চোরামুখের কাছারি থেকে তিন ভাটি গেলে তবে ভাঙনঙাঙার জঙ্গল, রানীতলার জঙ্গল, বজ্ঞ एछांद्धि छत्रल । —তারপর— • এখানে বৃদ্ধ গল্প বন্ধ করিয়া তামাক সাজিতে আরম্ভ করিল। ডালুসান্ট-স্ব আর সন্থ হয় না, তামাক খাইবার কি.এই সময় ? ডালু অধীর আগ্রহের স্বরে বলিল—তার পর ? —তারপর আমরা খালে নৌকো নোঙর করে ভাঙনডাঙার জঙ্গলে গইচি মৌচাক ভাঙতি। একটা তালগাছের গুড়ির মত জিনিস এক জায়গায় পড়ে আছে । তার ওপর লতাপাত । আমরা হেঁটে হেঁটে গিইছিলাম। যেমন বসলাম, অমনি দেখি নড়ে উঠেচে ! ও মা, তারপরে দেখি সরে সরে যাচ্চে গাছের গুড়িটা। তখন দেখি গুড়ি নয়। মন্তবড় সাপ নডচে। তখনি দেলাম ছুট। ই করে নিঃশ্বেস ফেলে সেই সাপে । নিঃশ্বেস টানার জোরে ছোট ছোট জানোয়ার এসে ওর মুখের মধ্যি ঢুকে যায়। —তারপর কি হোল হ্যাগে ? . —আবার কি হবে! পালালাম মোরা সোজা । আর কি সেখানে দাড়াই ? বাঘও দেখিচি বড় বড়–কিন্তু বাঘের চেয়েও সাপ বড় ভীষণ জানোয়ার, খোকাবাবুরা। —কেন ? বাঘের চেয়েও ভয়ানক ? —সাপ যে নিঃশ্বেসে টেনে নেয় কিনা ? ঘাপটি মেরে থাকে জলের ধারে—ঝোপঝাড়ের আড়ালে। কেউ টের পার না আগে থেকে, হঠাৎ টেনে নেয়। পাকে-পাকে জড়িয়ে ওর হাড়গোড় গুড়ো-গুড়ো করে ফেলে বাবু ! পিণ্ডি পাকিয়ে দেয় একেবারে । বাহিরে রারি অন্ধকার নামিয়া আসিল । কেরোসিনের টেমিটা টিম-টিম করিয়া জলিতেছে । ধোঁয়ায় নৌকার খোল প্রায় ভরিয়া আসিল । ডালুর গা যেন শিহরিয়া উঠিল। তাহার কেমন ভয়-ভয় করিতেছে, এখানে এ সন্ধ্যায় না আসিলেই হইত ! হঠাৎ সে কখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছে ! যখন ঘুম ভাঙিল, সে দেখিল নদীর ধার হইতে কিছু দূরে একটা, আম-কাঠের বড় গুড়ির উপর গুইয়া আছে। ডলু ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিল। এখানে সে কেমন করিয়া মাসিল ? সে দুই হাতে চোখ রগড়াইয়া লইল । রাত্রির অন্ধকার চারিদিকে, মাথার উপর বাদুড় ঝটপট করিতেছে তারাতরা আকাশ। সে এখানে কেন? নৌকা কোথায় ? সান্ট কোথায় ? ডালু ছটিয়া গেল নদীর ধারে। ওই তো সেই বেনার ঝোপ নদীর পাড়ে। ওইখানেই ওই বেনার ঝোপের মধ্যেই তো লোহার বড় নোঙর ফেলিয়া নৌকাটা দাড়াইয়া ছিল । সে নৌকা