পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান לס এর উত্তরে আগন্তুক দেবতা ৰপ্লেন—আমার কথা শুনে হয়তে আপনি বিশ্বাস করবেন না । আমি বহু, বহু দূরের অন্য এক নক্ষত্ৰজগতের অধিবাসী। আমি বহু কোটি বৎসর পূর্বে ভ্রমণে এবং নতুন দেশ আবিষ্কারে বেরিয়েছিলাম। আমার চৈতন্ত যতদিন হয়েচে আমার মনে এক অদম্য পিপাসা ছিল বিশ্বের প্রত্যস্ততম সীমা আবিষ্কার করবো । কি কি নতুন দেশ এতে আছে দেখবো। এতকাল ধরে বেগমান বিদ্যুতের অপেক্ষাও দ্রুততর গতিতে শুধু শূন্তে বেড়িয়ে বেড়াচ্চি। সম্প্রতি নক্ষত্রের, গ্রহের, নানা জগতের ও বিভিন্ন লোকের গোলকধর্ণধার অরণ্যে দিশাহারা হয়ে এখানে শক্তিহীন, অবসন্ন ও বিমুঢ় অবস্থায় এসে পড়েচি। নক্ষত্র ও বস্তুজগৎ এখানে এত বেশী কেন ? এ দুটি প্রাণী কোথাকার লোক ? 亨 —এই দুই জীব পৃথিবীর তৃতীয় স্তরের অধিবাসী । পুরুষটি সম্প্রতি বস্তু-স্তর থেকে আত্মিক স্তরে এসেচে। ওরা নিতান্ত নিরীহ, অজ্ঞ । মেয়েটি কিছু উন্নত—তাও জ্ঞানে নয়, প্রেমে । যতীন এতক্ষণ শ্রদ্ধায় ভয়ে ও গভীর বিস্ময়ে আড়ষ্ট হয়ে পিছন দিকে দাড়িয়ে ছিল। সে এই কথাবার্তার বিন্দুবিসর্গও বুঝছিল না—তার মনে অত উচ্চ দেবাত্মাদের চিস্তা প্রতিফলিত হৰার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। পুপ ওর দিকে চেয়ে কথা বলতে সে বুঝলে যে তার সম্বন্ধে কোনো কথা বলা হচ্চে । সে এগিয়ে এসে প্রণাম করে চুপ করে রইল। এত বড় জ্যোতির্ময় আত্মা সে আর কখনো দেখেনি। দেবতা বল্লেন—উঃ, কোথায় এসে পড়েচি ৷ বিশ্বের কোন অংশে যে আছি তা কিছুই বুঝতে পাবচি নে । তুমি কোন একটা গ্রহের নাম করলে ? যে নক্ষত্রটার চারিধারে ঘোরে সেটা আমি নতুন দেখলাম । নক্ষত্রটা খুব বড় নক্ষত্রের দলে পড়ে না । এবং ওর আলোও পরিবর্তনশীল, আমি বার কয়েক ওর আলো-কে বাড়তে-কমতে দেখেচি। ওর নাম কি বল্লে—সূর্য । পুষ্প তার নিজের চিন্তার কিছু অংশ এবার যতীনের মনে চালনা করলে। সে বেচারা চুপ করে দাড়িয়ে আছে, বুঝচে না কোন ভীষণ মহাপুরুষের সামনে দাড়িয়ে পুপ পোড়ারমুখী কথা বলচে। জামুক ও বুঝুক কিছু । পুষ্পের মনের মধ্যে দিয়ে ওদের কথাবার্তা যতীন বুঝতে পারলে এবং বুঝে অবাক হয়ে গেল। পুষ্প ভাবছিল—এ আবার কত উচ্চস্তরের, কি ধরনের লোক রে বাবা, যে সূর্যের নামটাই শোনে নি কখনো, পৃথিবী তো দূরের কথা । কথাটা মনে হয়ে তার বড় হাসি পেল। ছিঃ—হাসি সামলে নিয়ে সে বল্লে—আপনার কথা শুনতে বড় আগ্রহ হচ্চে। আপনি আমাদের বাড়ীতে বসে একটু বিশ্রাম করুন। আর দয়া করে বলবেন কি, কি দেখলেন এতকাল ধরে ? আগস্তুক ওদের বাড়ীর বাইরে পাথরের বেঞ্চিতে এসে বসলেন। যতীন সন্ত্রমে উদভ্ৰান্ত ও দিশেহারা হয়ে হঠাৎ বিনীতভাবে বলে বসলে, একটু চা খাবেন কি সার ?