পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী אס\ পুষ্প মুখে আচল চাপা দিয়ে অতিকষ্টে হাসি দমন করে বল্লে –কি যে তুমি কবে যতুদ ! পৃথিবীর অভ্যেস্ তোমার এখনও গেল না। চা খাবে কে ? আর ‘সার’ বলচে কাকে ? যতীন প্রতিভ হয়ে অধিকতর বিনীত ভাব ধারণ করলে । এই দুই নবদৃষ্ট আত্মার কাও দেখে আগন্তুক দেবতার মন কৌতুকে ও আনন্দে পূর্ণ হয়ে উঠলো। কোথাকার জীব এরা, অথচ স্তাখো কি সুন্দর হাসে ! মহামহেশ্বরের বিচিত্র স্বষ্টি শুধু বিরাটতার দিক থেকেই নয়, আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যেও এর কি রহস্যময় মূর্তি। এরা কেন হাসচে, কি নিয়ে কথা বলচে তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। আর একটা কথাও তিনি বোঝেন নি, তাই এখন পুষ্পকে প্রশ্ন করলেন--গ্রহের জড়লোক আর আত্মিকলোক কি বলচে, বুঝতে পারলাম না তো ? কি সেটা ? পুষ্প বল্পে—প্ৰভু, আমরা যখন পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করি, তখন আমাদের দেহ অন্য পদার্থ দিয়ে তৈরী হয় । সে দেহ স্থূল, সেখানকার সব জিনিসই সেই ধরণের স্থল পদার্থে গড়া । তারপর একটা সময় আসে, যখন সেই স্থূল দেহটা নষ্ট হয়ে যায়—তখন আমরা এই আত্মিক লোকে আসি । কেন, প্রভু, আপনি কি এ জানেন না ? দেবতা বল্লেন-শুনেচি বটে এমন হয় কোনো কোনো গ্রহের জীবের ক্ষেত্রে, অামার অভিজ্ঞতা নেই। আমায় সেখানে একবার নিয়ে যাবে—তোমাদের এই পৃথিবী গ্রহের জড়লোকে ? —কিন্তু সেখানে আপনি যেতে পারবেন দেব অত স্থূল রাজ্যে ? দেবতা হেসে বল্লেন—আমি পথিক। কত বিরুদ্ধ ভাবের মধ্যে দিয়ে চলা অভ্যেস্ করতে হয়েচে আমাকে, তবে বিশ্বভ্রমণ করা সম্ভব হয়েচে । নইলে তোমাদের এই যে যাকে বলচো আত্মিকলোক, এখানেই কি আমি আসতে পারতাম ? জড়বস্তুর নিবিড় প্রকাশ আত্মার ক্ষেত্রে আমি দেখেচি অন্য অনেক গ্রহে । চল, যাই । একটু পরে ওরা তিনজনে পৃথিবীর দিকে চললে । পৃথিবীর নিকটে এসে দেবতা বল্লেন —উঃ, মেঘের মত কি সব বিশ্ৰী চিস্তার ধোয়া চারদিকে ! তোমরা দেখতে পাচ্চ না ? যতীন তো কিছুই দেখতে পায় ন!—পুষ্প জানে, পৃথিবীর মানুষের পাপের ও দুঃখের নানারকম চিন্তার মেঘ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জমা হয়ে মাঝে মাঝে পৃথিবীতে যাতায়াতের সময় তাকে কষ্ট দিয়েচে। তবুও সে পৃথিবীরই জীব, তার ততটা কষ্ট হয় না, যতটা ইনি পাবেন। যেখানে ওরা গিয়ে নামলে সেটা ভারতবর্ষের বিহার অঞ্চলের একটা ছোট গ্রাম। মহিষদল মাঠে চরাচ্চে রাখালক । তিনজন মেয়েমানুষ একটা ভুট্টাক্ষেতের ধারে দাড়িয়ে ঝগড়া করচে পৃথিবীতে ভাত্রণাস। শরতের বেশ পরিষ্কার নীল আকাশ, বন্যার জল এসে নেমে গিয়েচে, গ্রামের মধ্যে গৃহস্থবাড়ীর উঠানে পচা কাদা । একটা বাড়ীতে মকাই-এর মরাই-এর মধ্যে জল ঢুকে মকাই-এর দানা পচিয়ে ফেলেচে বলে বাড়ীর মেয়েরা মকাইগুলো নামিয়ে ঝাড়চে ।