পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


O8 বিভূতি-রচনাবলী so সব সুন্দর নক্ষত্রমণ্ডলী পার হয়েও লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের অঞ্চলে চলে গিয়েচেন । তখনও দেখেন বহু দূরে আর এক অজানা বিশ্বের সীমা মহাশূন্যের প্রান্তে আবছায়া দেখা যায়। আবার ণে বিশ্বেও পৌছেচেন, আবার অগণিত নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ নীহারিকারাজির মধ্যে দিয়ে দেবতার অমিত গতিতে বহু শত বৎসর ধরে ছুটে গিয়ে যেমন তার সীমা ছাড়িয়েচেন, আবার দূরে দেখতে পেয়েচেন আর এক রহস্যময় অজ্ঞাত বিশ্বের ক্ষীণ সীমান্তবর্তী ক্ষীণালোক তারকামণ্ডলী । কত প্রজলস্ত লক্ষত্র, কত স্বয়ম্প্রভ বাষ্পমণ্ডলী লক্ষ লক্ষ যোজন বিস্তৃত হয়ে রয়েচে শূন্যের দিগন্ত থেকে দূর দিগন্তে.অবশেষে এই বর্তমান বিশ্বটায় পৌছে গ্রহনক্ষত্রের গোলকধাথার মধ্যে কিছু দিশহারা হয়ে পড়েছিলেন ।. পুষ্প বল্লে—আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন ? দেবতা বল্লে—ত অসম্ভব । এই গ্রহের বিভিন্ন আত্মিক স্তর ছেড়ে তোমরা কোথাও যেতে পারবে না । এর আবর্মণে টেনে রাখবে । সে দেহ তোমাদের তৈরী হয় নি। তবে আর কিছুকাল অপেক্ষ কর । কাছাকাছি বহু অদ্ভুত জগৎ আছে, সেখানে তোমাদের নিয়ে যাবো ; আমায় স্মরণ করে ন! —তাতে আমি আসবো না। যখন তোমরা তার উপযুক্ত হয়েচ বুঝবো --আমি নিজেই আসবে। এখন আমি যাই। আর একটা বিষয়ে সাবধান থেকে, তোমরা দেখতে পাচ্চ না, আমি পাচ্চি, তোমাদের এই গ্রহটার চারিদিক ঘিরে একট। বিরাট শক্তিশালী চৌম্বক ঢেউ বষ্টচে, সেটা সব সময় তোমাদের ঐ পৃথিবীর দিকে টানচে । এই ঢেউ-এ পড়লে ঘুরিয়ে নিয়ে এসে ঐ পৃথিবীর জড়লোকে তোমাদের ফেলে পুনরায় জড়দেই ধারণ করাতে বাধ্য করবে ! এটাকে পুনর্জন্মের ঢেউ বলা যেতে পারে । খুব সাবধান । বিশ্বের সীমা আবিষ্কার করবার যার আগ্রহ, সে যেন ক্ষুদ্র গ্রহের স্থলস্তরে আবার স্থল জড়দেহ ধারণ না করে । পুপ ও যতীন দুজনে প্রণাম করলে । পুষ্প বল্লে --আবার যেন আপনার দেখা পাই, দেব। পর মুহুর্তে দেবতা অন্তহিত হলেন । পুষ্প বল্লে—দেখলে তো ? শুনলে ? ওই সেই চুম্বকের ঢেউ । আমাকে এক দেবতা বলেছিলেন অনেক দিন আগে ! তোমাকে একবার পঞ্চম স্তরে নিয়ে যেতে যেতে বিপদে পড়েছিলুম, তুমি অজ্ঞান হয়েছিলে—মনে আছে ? সেইবার তার সঙ্গে দেখা । ); একদিন গঙ্গার ঘাটে বসে থাকার সময় যতীন দেখে অবাক হয়ে গেল যে দিবি চমৎকার জ্যোৎস্ন উঠলো। একেবারে পৃথিবীর পূর্ণিমার জ্যোৎস্না। তার শুভ্র আলোর ঢেউ পড়লে গঙ্গাবক্ষে, পড়লো গিয়ে ওপারের শু্যামামুন্দরী মন্দিরের সর্বাঙ্গে, তীরের প্রাচীন বটের মাথায় ডালের ফাকে ফঁাকে । যতীন ভাবলে--এ আবার কি ? জ্যোৎস্ন' তে কখনো এখানে দেখিনি! এখানে রাত্রিই বা কি, দিনই বা কি !