পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


じど বিভূতি-রচনাবলী শ্রেণী ঠিক করতে শিখে গিয়েচে যতীন । এ সব আত্মার রং খানিকটা খানিকটা মেটে সি’দুরের মত লাল। খুব সাধারণ শ্রেণীর আত্মা । তবে নিম্ন শ্রেণীর আত্মা এখানে আসে না । তাদের দ্বিতীয় স্তরের নিম্ন পর্যায় ছাড়িয়ে ওঠবার সাধ্যই নেই। হঠাৎ যতীন বল্লে—সে পাহাড় তো চতুর্থ স্তরে, সেখানে পৌছে আবার অজ্ঞান হয়ে পড়বে। না পুপ ? পুষ্প হেসে বল্লে—তাহলে তোমায় কি আনতুম যতুদা ? সেবার তুমি সেখানে অজ্ঞান হয়েছিলে, সেটা চতুর্থ স্তরের উধ্ব লোক । চতুর্থ স্তরে ঠিকই ছিলে । চতুর্থ স্তরে সেই নীল হ্রদ দেখেছিলে, যেখানে দেবদেবীরা স্নান করছিলেন । w যতীন বল্লে –কই, কোথায় দেবদেবীরা মান করছিলেন আমি তো দেখিনি ? তখন থেকেই অামার জ্ঞান চলে যাচ্ছিল তাহলে । ওদের কথা শেষ হতে না হতেই যতীন দেখলে তারা একটা অত্যন্ত সুন্দর দেশে এসে পৌছেচে । দেশটার চারিদিকেই চক্রবাল রেখার কূলে কুলে নীল পাহাড়। গাছপালা সেখানে আদৌ তৃতীয় স্তরের মত নয়—কোনোটার রং নীল, কোনোটার বেগুনী, কোনোটার সোনালী ; ফুলফল যেন রঙীন আলো দিয়ে গড় । পাহাড়ের মাথায় মাথায় যেন জলন্ত রঙীন আলোর মেলা । পুপ একটা গাছের ফুল তুলে ওকে দেখালে, তুলবা মাত্র বোটায় আর একটা ফুল কোথা থেকে এসে শূন্তস্থান পূর্ণ করলে। আরও একটা আশ্চর্য ব্যাপার, প্রান্তরের ও শৈলসান্তব সব ফুল মুহূর্তে মুহুর্তে স্পন্দিত হচ্চে, যেন চারিদিকে রাশি রাশি লক্ষ লক্ষ নানা বিচিত্র বর্ণের জোনাকি নিবচে জলচে । পাখীগুলো যখন আকাশে উড়চে, তাদের ডানায় যেন সাতরঙ রামধন্থর খেলা ৷ এদেশে বাতাসে একটু অদ্ভূত শাস্তি ও আননের বার্তা--একটা বিচিত্র জীবন-উল্লাসের ইঙ্গিত । যতীন একটা জিনিস লক্ষ্য করলে, এখানকার দৃষ্ঠা যে রকম, পৃথিবীতে এ দৃশু কল্পনাও করা যায় না। এর কোনো জিনিস পৃথিবীতে নেই । পুষ্পকে সে কথাটা বল্পে । —পৃথিবীর সঙ্গে খুবই কমই মিল এ দেশের, না পুষ্প ? পুষ্প বল্লে—যতুদ,এর একটা সহজ কারণ আছে। দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের আত্মারা পৃথিবী থেকে সদ্য এসেচে। পৃথিবীর স্মৃতি তখনও তাদের কাছে মান হয়নি। যখন তারা মানসলোক স্বষ্টি করে, পৃথিবীর সেই স্মৃতি তাদের অমেকখানিই সাহায্য করে। কাজেই তাদের তৈরী স্বৰ্গ হয় পৃথিবীরই অবিকল নকল । কিন্তু এই সব স্তরের আত্মিকদের মনে পৃথিবীর স্মৃতি অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে এসেচে-অ."কের নেই বলেই হয়। কাজেই তারা যখন গড়ে–নিজেদের কল্পলোক নিজেদের কল্পনা থেকে গড়ে । তাই সব হয় নতুন, সবই হয় আজগুবী । এ সবই যা দেখচো এ স্তরের অধিবাসীদের স্বষ্টি—ওই পাহাড়পর্বত, গাছপালা, ফুল, পাখী, সাধারণ দৃষ্ঠ—সব।' –কিন্তু তোমার মানুষজন কই ? একজনেরও তো সাক্ষাৎ নেই।