পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8br বিভূতি-রচনাবলী যতীন বৃদ্ধকে কথাটা জিজ্ঞেস করতেই সে অবাক হয়ে ওর দিকে ফ্যল্ ফ্যাল করে চেয়ে বল্লে —তবে কি বাৰু বেী হাসপাতালে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিল ? যতীন বল্লে—তা নয়, তুমিও আর বেঁচে নেই। তুমিও মরে গিয়েচ, তোমার বৌও মরে গিয়েচে । আমিও মরে গিয়েচি। সবাই আমরা পরলোকে আছি এখন। তোমাকে উদ্ধার করতে আর দু'জন দেবী এখানে এসেচেন, তুমি তাদের দেখতে পাচ্চ না। এখানেই তারা আছেন। তোমার এ অবস্থা দেখে তাদের দয়া হয়েছে। এবার তোমার ভাবনা নেই, তোমার স্ত্রীর সঙ্গেও আমরা দেখা করিয়ে দেব । বুদ্ধ কিন্তু এসব কথা বিশ্বাস করলে না । সে সন্দিগ্ধ সুরে বল্লে , তবে আমার এই রোগট হোল কেন ? এটা সারাবার একটা ব্যবস্থা করে দিন দয়া করে । বৌ-এর সঙ্গে দেখা করে কি হবে বাবু ? হাসপাতাল থেকে সে যদি সেরে থাকে, তবে তো ভালই। তার ভাইএর বাড়ী আছে বুঝি ? তা থাকৃ, দেখা করে আর কি হবে বাবুমশাই, এ রোগ নিয়ে আর কারু সঙ্গে দেখা করতে চাইনে বাবু । যতীন ওর কাছে পরলোক ও মৃত্যুর প্রকৃতি বর্ণনা করলে খানিকক্ষণ । করুণাদেবী বল্লেন— ওসব বলে না যতীন ওর কাছে । ওতে কোনো উপকার হবে না। ও কি বুঝবে ওসব কথা ? দেখচো না কত নিম্ন স্তরের আত্মা ? বুদ্ধি বলে জিনিস নেই ওর মধ্যে । ওকে বোঝাতে হোলে অন্যপথে যেতে হবে । ওর স্ত্রীকে আনতে হবে খু'জেপেতে কোনরকমে, তার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে হবে । কিন্তু ওর তো দেখচি ভালবাসার কোনো বন্ধন নেই স্ত্রীর সঙ্গে। এ অবস্থায় দুজদের যোগস্থাপন করানোই কঠিন কাজ। এ লোকে যার সঙ্গে যার ভালবাসা বা স্নেহ নেই, তার সঙ্গে তার কোনো যোগই যে সম্ভব নয় । আরও কয়েকবার যাতায়াত ও অনবরত.চেষ্টা করলে ওর। বৃদ্ধ কিছু বোঝেই না। তাকে তার অবস্থা বোঝানো সাংঘাতিক কঠিন হয়ে দাড়ালো। তাকে কিছুতেই বোঝানো যায় না যে সে মরে গিয়েছে । কারে ওপর তার টান নেই—না স্ত্রী, না ছেলেমেয়ে, না অন্য কারে ওপর । করুণদেবী বল্লেন—শুধু বুদ্ধিহীন বলে নয়, এমন একটি অদ্ভুতধরনের হৃদয়হীন প্রেমহীন আত্মা আমি খুব কমই দেখেচি। মনে প্রেম ভালবাসা স্নেহ এসব যদি থাকতো তা হলেও ওর উদ্ধার এত কঠিন হোত না । কি যে করি এখন ! কিন্তু কি অপূর্ব নিঃস্বর্থ দরদ করুণাদেবীর পুতিত হতভাগ্যদের ওপর কি তার মায়ের মত গভীর সহানুভূতি! কত কষ্ট করে তিনি নিম্নস্তরের বহু জায়গা খুঁজেপেতে একদিন এক স্ত্রীলোককে এনে হাজির করলেন এর সামনে । যতীন আর મૂજ সব সময়েই ওঁকে সাহায্য করতে, ওঁর সঙ্গে সঙ্গে থাকতো। কারণ অত নিম্নস্তরে দেবী সম্পূর্ণরূপে অদৃত । পুপও তাই— যতীনের বিন সাহায্যে কোলো কাজই সেখানে হবার উপায় ছিল না। স্ত্রীলোকটিরও তেমন বুদ্ধি-শুদ্ধি নেই, মনে প্রেম-ভালবাসাও তথৈবচ। ধুসরমিশ্রিত লাল রঙের দেহধারী আত্মা । তবে সে সক্রিয় ধরনের বা অনিষ্টকারী চরিত্রের মেয়ে নয়—মোটামুটি ভালমানুষ এবং ওর