পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভূমিকা বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ গিরীন্দ্রশেখর বন্ধ একবার আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, লেখকরা যত চরিত্রই স্বষ্টি করুন না কেন—তা তার নিজেরই চরিত্রের বা মনের এক একটা দিক। নিজেদের মানসিক গঠনের বাইরে কিছু কল্পনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় । Authors always re-create themselves. স্বতরাং-একথা যদি সত্য বলে মানতে হয়, আর মানাই উচিত— বিভূতিভূষণের রচনাকে বুঝতে হ’লে আগে সে মাহুষটাকে বোঝা দরকার। 穹 বিভূতিভূষণ অবশ্য তার রচনাতে কোথাও এ সত্য অস্বীকার করেন নি। লেখকরাসাধারণত নানারকম প্যাচ কষে নিজেদের স্বই চরিত্রের আড়ালে আত্মগোপন করার চেষ্টা করেন—যাতে তাকে এদের মধ্যে থেকে চিনে নিতে না পারা যায়, এইটেই হয় তাদের প্রধান লক্ষ্য, কিন্তু বিভূতিভূষণ সে চেষ্টা আদৌ কোথাও করেন নি। আরণ্যকের সত্যচরণ তো সোজাসুজিই তিনি- সে ছাড়াও কাল্পনিক চরিত্রের ক্ষেত্রেও তিনি পরিষ্কার ধরা দিয়েছেন । র্তার অপু লেখকের নিজের চরিত্রের যতগুলি দোষ ও গুণ—আশা আকাঙ্ক্ষা-কল্পনা ভ্যানিট দুর্বলতা নিয়েই গড়ে উঠেছে—শিশু থেকে বড় হয়েছে। শিশুর মতো উৎসুক ও সরল, জ্ঞানপিপাস্ক, সাংসারিক কুণ্ডজ্ঞানবজিত, বেহিসেবী, যে নির্দোষ মিথ্যা কথা বলতে ভালবাসে, যার নানারকম ছোটখাটো ভ্যানিট আছে ( তার মধ্যে রূপের গর্ব বা নিজের রূপ সম্বন্ধে উচ্চধারণা প্রধান ), নারী-হস্তের সেবার প্রতি যার লোভ দৈহিক আকর্ষণের থেকে অনেক বেশী প্রবল, নারীর কল্যাণীরূপই যাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছে –এমনি একটি মানুষই র্তার উপন্যাসে গল্পে বার বার দেখা দিয়েছে—তু কে জানে পথের পাচালী, অপরাজিত আর কে জানে বিপিনের সংসার, দৃষ্টিপ্রদীপ, অথৈজল, ইছামতা ! অবশ্য কিছু কিছু বৈচিত্র্য আনার চেষ্ট যে না করেছেন তা নয়—কেদার-রাজায় লম্পট বেশ্বাসক্ত রমণীলোভাতুর চরিত্র দেখানোর চেষ্ট করেছেন, বিপিনের সংসারের বিপিন প্রথম যৌবনে ফুর্তি করে পৈতৃক সম্পত্তি উড়িয়েছে কিন্তু এ সব আত্মগোপনের ক্ষীণ প্রচেষ্ট নিতান্তই ছেলেমানুষীতে পর্যবসিত হয়েছে, আসল মানুষটি আসল চরিত্রের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেয়েছে । মৃৎশিল্পীরা যেমন একই ছাচের মুখে লক্ষ্মা সরস্বতী শীতলা সব মূর্তিই তৈরী করেন—বিভূতিভূষণের কলমে গড়া মূর্তিদের মধ্যেও আদলটা একই থেকে গেছে। মূতির ক্ষেত্রেও যেমন এতে কোন অস্ববিধা হয় না—বিভূতিভূষণের রচনার ক্ষেত্রেও তেমনি কোন অস্থবিধা হয় নি, আদলু বা মুখের ছাচ এক হ’তে পারে- তবু মূর্তিতে মূর্তিতে তফাৎ আছে বৈকি ! এর ব্যতিক্রমের মধ্যে আছে হাজারী ঠাকুর । তবু খুব একটা ব্যতিক্রম কি ? লক্ষ্মীর ছাচে মুখটা তৈরী করে তাতে সিথে-চের চুল ও গোফ লাগিয়ে কার্তিক করলে যা দাড়ায়, তাই নয় কি ? অশিক্ষিত রাধুনী বামুন—যার আশা আকাঙ্ক অবগুই সীমিত, তার স্বভাবকে