পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান (tఏ এ সবও ছাড়িয়ে এক জ্যোতির্ময় রাজ্যের প্রান্তে গিয়ে একটি অপূর্ব শাস্তির অনুভূতি সে অনুভব করলে...স্বগভীর আনন্দ ও শাস্তি, আর যেন মনে কোনো আশা নেই, কোনো তৃষ্ণ নেই, মুখ নেই, দুঃখ নেই, পাপের ভয় নেই, পুণ্যের স্পৃহা নেই, স্বৰ্গভোগের আকাঙ্ক্ষা নেই, ’ পুষ্পের প্রতি প্রেম নেই, আশালতার প্রতি অনুকম্প নেই—মনই নেই–যেন শুধু আছে ‘আমি আছি। এই অনুভূতি, আর আছে তার সঙ্গে মিশে এক অতি উচ্চস্তরের আনন্দ, শান্তি মহা উচ্চ জ্ঞান ও স্বয়ম্ভু স্বপ্রতিষ্ঠ অস্তিত্বের গভীর অনির্বচনীয় আনন্দ । যতীনের মনে হোল সেই সন্ন্যাসা যেন কোথায় তার আগে আগে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন --- কখনও র্তার জ্যোতির্ময় দেহ দেখা যায়, কখনও যায় না । 登 蠍 তারপর সেই জ্যোতির্ময় দেশের অপূর্ব শাস্তি ও আনন্দময় আবেষ্টনীর মধ্যে সে প্রবেশ করলে...সঙ্গে সঙ্গে সেই সুগভীর পুলকে তার মন আবার ভরে উঠলো—উজ্জল জ্যোতির্ময় দেহধারী দেবদেবীরা সে রাজ্যের মণ্ডলে বিচরণ করচেন, তারা যে আসনপীঠে ঠাকুর সেজে আড়ষ্ট হয়ে বসে আছেন তা নয়, তারা যেন সে জগতের সাধারণ অধিবাসী, নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত আছেন, তাই কেউ আকাশপথে বায়ুভরে চলেচেন, সমতল ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল পৃথিবীর মানুষের মত নন তারা—উধেব, নিম্নে—সবদিকে সমান গতি র্তাদের.দু’একজনকে কাছে থেকে দেখবারও অবসর সে পেলে,পৃথিবীর মানুষের মত দেহ বটে, কিন্তু যেন বিদ্যুৎ দিয়ে গড়, দেবীদের মুখের সৌন্দর্য অতুলনীয়, তাদের পৃথিবীর বাড়ীতে ছেলেবেলায় একটি প্রাচীন পটুয়ার আঁকা রাজরাজেশ্বরী মূর্তি ছিল দেওয়ালে টাঙানো, তার বৃদ্ধা ঠাকুরমা রোজ স্নান সেরে সেই পটের পূজো করতেন, খানিকক্ষণের জন্যে যেন পটের মুখ হাসতে—এতদিনের মধ্যে জীবনে সে সেই পটে আঁকা রাজরাজেশ্বরীর মুখশ্রীর মত সুন্দর ও কমনীয় মুখশ্ৰী আর দেখেনি- এখানে সে দু-একটি দেবীর মুখ যা দেখবার স্বযোগ পেলে, পটের সে ছবির মুখের চেয়ে অনেক, অনেকগুণে স্বত্র, আরও মহিমময়ী, বক্ৰ চাহনির মধ্যে ত্রিভুবন-বিজয়ী শক্তি. অথচ মুখে অনন্ত করুণার বাণীমুতি । কোথায় যেন রাশি রাশি বনপুষ্প ফুটেচে, নির্বাত ব্যোম তাদের সম্মিলিত স্ববাসে ভরপুরএসবও ছাড়িয়ে চললো সে...মহাবিদ্যুতের মত তার গতি, কোথাও অনস্ত ব্যোমে, মহাশূন্যের স্বদূরতম প্রাস্তে, অনন্তের জ্যোতি-বাতায়ন যেখানে চারিদিকে উন্মুক্ত.দেবদেবীর বাসস্থান এ সব মহাদেশও যেন আপেক্ষিক চৈতন্তের রাজ্য , বাসনার রাজ্য”এদেরও দুর, বহর পারে, সব আকাশ ও সময়ের পারে, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যেখানে এক হয়ে মিলিয়ে গিয়েচে–সোম স্বর্য নেই, তারকা নেই, অন্ধকার নেই, আলোও নেই—সেই এক বহুদূর দেশে সে গিয়ে পৌছেচে.এদেশ আকারধারী জীব বা দেবযানীর রাজ্য নয়, সর্ববিধ আকার এখানে জ্যোতিতে লোপ পেয়েচে, অথচ এ জ্যোতিও দৃশ্যমান আলোকের জ্যোতি নয়, আগুন নয়, বিদ্যুৎ নয়—কি তা সে জানে না...তার সর্বদিকে, তাকে চারিধার থেকে ঘিরে এই জ্যোতি---আর কি একটা বিচিত্র, অনির্বচনীয় অনুভূতি...ওর মন লোপ পেয়েচে অনেকক্ষণ, চৈতন্যও যেন লোপ পেতে বসেচে.অথচ যতীনের মনে হোল এই তার আপন স্থান, এতদিনে আপন স্থানে সে ফিরে