পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Nෂම් বিভূতি-রচনাবলী দেখতে পেতে পারে । তোমার দেহও এখনও তেমন সূক্ষ্ম হয়নি । তাতে ফল হবে উণ্টে ! ও আঁক-পাক করে উঠবে ভূত দেখচে বলে, সেবারে সেই জানো তো ? যতীন বাইরের রোয়াকে গিয়ে দাড়ালো । যতীনের বৃদ্ধা শাশুড়ী পাশের ঘরে অঘোরে ঘুমুচ্ছেন। যতীনের মনে পড়লো, আশার সঙ্গে প্রথম বিয়ের পরে এই ঘরে তাদের বাসর হয়। তারপরে জামাইধষ্ঠাতে শ্বশুরবাডাতে এসে সে এই ঘরে নববিবাহিতা বধুর সঙ্গে রাত্রিযাপন করেচে। কোথায় গেল সে সব দিন । তার ইচ্ছে নেই অন্য কোথাও যাবার। আশা বিপন্ন, সে এখানে আশার কাছেই থাকবে । স্বৰ্গ-টর্গ তার জন্যে নয়। ঐ সেই কুলুঙ্গি, আশার জন্তে এক শিশি গন্ধতেল কিনে এনেছিল একবার, ঐ কুলুঙ্গিটাতে থাকত, দুজনে মাখতো । তার মাথায় জোর করে বেশি তেল ঢেলে দিয়ে আশা নিজের হাতে মাখিয়ে দিত । কাড়াকড়ি করে মাখতে দুজনে । সেই আশা কেন এমন হয়ে গেল ? পুপ এসে বল্লে- এসো যতীন-দ। আশাবোধি ঘুমিয়ে পড়েচে । আশা থানিকক্ষণ আগে ঘুমিয়েচে । ময়লা বালিশটা মাথায় দিয়ে ছেড়া মাছুরে শরীর এলিয়ে দিয়েচে । যতীনের মন করুণায় ভরে উঠলো। মেয়ে-মানুষ অসহায়, ওদের কি দোষ । সংসারে বহুলোক ও পেতে আছে ওদের বিভ্রান্ত করে ভুল পথে নিয়ে যাবার জন্তে । একটু আশ্রয়ের আশায় ওরা না বুঝে না ভেবে দেখে সে পথে ছোটে । যতীন কাছে গিয়ে ডাকলে —আশা ? পুষ্প বল্লে—দাড়াও, শুধু ডাকলে হবে না, লেকচারের কাজ নয় । ওর মনে তোমাদের কোনো একটা মুখের রাত্রির ছবি অঁাকে । যেমন ধরে তোমাদের ফুলশয্যার রাত্রি, তোমাদের গায়ের ভিটেতে । —সে কি করে করব ? —সেদিনের কথা একমনে চিন্তা করে।-- একটু পরে আশার স্বক্ষ শরীর ওর দেহ থেকে বের হয়ে মূঢ়, অভিভূতের মত চারিদিকে চাইলে । কিন্তু পুষ্প দেখেই বুঝলে সে দেহ ইন্দ্রিয়গ্রাহ স্থূল জগতের উধের অতি নিম্নস্তরেও নিজের চৈতন্য পূর্ণ প্রকাশ করতে অসমর্থ। পুপ বল্লে—ণ্ডকে ছবি দেখাও যতীনদী--- →ছবি দেখবে কে ? ওর তো এ লোকে জ্ঞান নেই দেখচি - —ছবি দেখাও, তা হোলে একটু চাঙ্গা হয়ে উঠবে--- —ফুলশয্যার রাত্তিরের ? —বা যে কোনো একটা মুখের দিনের পারবে তো ? আমার দ্বারা তো হবে না। তোমার নিজের ছবি তোমাকে দেখাতে হবে। যতীন একমনে ভেবে সত্যিই একটা ছবি তৈরি করতে সমর্থ হোল । এ স্তরে চিন্তার শক্তি ক্ষণস্থায়ী আকার নির্মাণ করতে সমর্থ—একটা পুরোনো কোঠার ঘর আশাকে এবং ওদের