পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান { や" সকলকেই যেন চারিদিক থেকে ঘিরে ফেললে । কাঠাল-কাঠের পুরোনো তক্তপোশে লেপ তোশক পাতা বিছানা যতীনের পৈতৃক, জানালার বাইরে মনসাতলার আমগাছটা, ঘরে জলচৌকির ওপর ঝকঝকে পুরোনো পেতল কাসা, যতীনের মায়ের হাতে মাজা। যতীনের শোবার সেই ঘরটি এমন বাস্তব হয়ে উঠলো যে আশার ঘরবাড়া মিলিয়ে গেল। যতীনও যেন অবাক হয়ে গেল তার চিন্তাশক্তির কার্য দেখে। আশা তার শ্বশুরবাড়ীর ঘরটাতে শুয়ে আছে -প্রায় নি খুত শ্বশুরবাড়ীর ঘর, দেওয়ালে টাঙানো কাঠের আর্শিটা পর্যন্ত । আশার সূক্ষ্ম দেহ তখনও অর্ধ-সচেতন। যতীন স্নেহপূর্ণ স্বরে ডাকলে--আশা, ও আশা— আশা যেন ঘুম ভেঙে উঠে চারিদিকে চাইলে এবং কি দেখে একটু অবাক হয়ে গেল। যতীন আবার ডাকলে—আশা, ও আশা— আশা যতীনের মুখের দিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে চেয়ে দেখল, যেন কিছু বুঝতে পারলে না। —আশা, ভাল আছ ? পুপ বল্লে-অমন-ধরনের কথা বোলো না। ছবির সঙ্গে খাপ খাইয়ে পুরোনো দিনের মত কথা বলে । যতীন বল্লে-আশা, কাল সকালে উঠে কাপাসডাঙায় যাবো কাজে। ভোরে একটু চা করে দিতে পারবে ? আশা উত্তর দিলে—খুধ ভোরে যাবে ? কত ভোরে ? —সাতটার মধ্যে । p আশার চোখের মৃঢ় দৃষ্টি তখনও কাটেনি। সে বল্লে—আমি কোথায় ? যতীন বল্লে—কেন, তোমার শ্বশুরবাড়ীতে—চিনতে পারচো না ? কি হয়েচে তোমার ? চ। দেবে করে ? —হঁ্যা । — খাবার দেবে না ? --কি থাবে ? চিড়ে দিয়ে ঘোল দিয়ে খেও এখন । একদিন আশা সত্যিই এই কথা বলেছিল ৷ যতীনের চোখে জল এল আবেগে । সে আবার তার পুরোনো পৈতৃক বাড়ীর বিস্মৃত দিনে ফিরে গিয়েচে নববিবাহিত আশার পাশে । যতীনে অনুভূতির তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে তার তৈরি ছবি আরও স্পষ্ট নিখুত হয়ে উঠলো। আশা এবার আরও সজাগ হয়ে উঠে চারিদিকে চাইলে, কিন্তু তার বিস্ময়ের দৃষ্টি এখনও কাটেনি । . যতীন বল্লে—তাহলে তাই । * আমায় তুমি ভালবাসে আশা ? কথা বলেই নেত্য চক্কত্তির মত সে অাশার হাতখানা নিয়ে নিজের হাতের মধ্যে রাখলে । তারপর পেছনে চেয়ে দেখলে পুপ সেখানে নেই। মেয়েমানুষ, যত উচ্চস্তরের হোক না কেন, প্রেমাম্পদ অন্তকে ভালবাসচে, এতে মন স্থির রাখতে পারে না । আশা কল্পে—হঁ্যাগ, তুমি কখন এলে ?