পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


هلی ঐশ্বৰ্ষ বা উচ্চশিক্ষাই শুধু নয়—কোন আড়ম্বর বা সমারোহই পছন্দ ছিল না বিভূতিভূষণের। সাধারণ দরিদ্র মানুষের ছোট ছোট আকাঙ্ক্ষা ছোট ছোট আশা তার কাছে অনেক বেশী মূল্যবান ছিল। যে কারণে তিনি দেশ থেকে কলকাতা আসার সময় সযত্বে পরিচিত ভদ্রলোকদের পরিহার ক’রে ট্রেনের ভেণ্ডার কামরায় উঠে অনায়াসে সব জীওলাদের কাছে বিড়ি চেয়ে খেতেন, তাদের স্থখ-দুঃখের গল্প শুনে ভ্রমণের ੇ ঘণ্টা কাটিয়ে দিতেন, সেই কারণেই তিনি দ্রবময়ীর কাশীবাস’ গল্পে কাশীবাসিনী নিষ্ঠাবতী সেই ভদ্রমহিলাটির প্রতি আত অকরুণ হ’তে পেরেছেন। সাধারণ ঘরোয় বৃদ্ধ দ্রবময়ীর দরিদ্র ঘরের সামান্য ফলফুলুরী গাছপালা গোরুর প্রতি আকর্ষণের জন্যেই বৃদ্ধাটি তার কাছে অসামান্তা, ঐ পণ্ডিত অতিরিক্ত ভক্তিমতী’ নীরজার থেকে বেশী আপন ও শ্রদ্ধেয়া। তাই বলে বৈষয়িক আসক্তিও তিনি সহ করতে পারতেন না। এই সব বদ্ধ-জীবদের কথা লিখতে বসলেই তার লেখনী ব্যঙ্গে ক্ষুরধার হয়ে উঠত। কেবলরাম কুণ্ডু থেকে শুরু করে ‘কবি কুণ্ডু মশাইয়ের’ সেই আড়তদার, যার বড় দুঃখ যে কিছু হজম হয় না—কাউকেই রেহাই দেন নি তিনি । ‘দেবযান’ বইটি বিভূতিভূষণের সমস্ত রচনার মধ্যে একেবারে দলছাড়া গোত্রছাড়া। এই-ই প্রথম একটা কাল্পনিক কৃত্রিম অবাস্তব পৃষ্ঠপট নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। কিন্তু তবু শেষ পর্যন্তও তার প্রিয় জগৎকে এ থেকে বাদ দিতে পারেন নি, তার নিজস্ব জীবনদর্শনকেও না । বহু তথাকথিত বিদগ্ধ লেখক আছেন যারা বই পড়ে বই লেখেন, স্ট্ররা পৃথিবীকে দেখেছেন অপরের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার মধ্য দিয়ে বিভূতিষণ এ দলের লেখক ছিলেন না কোন কালেই । কিন্তু ব্যতিক্রম দিয়েই নাকি নিয়ম প্রমাণিত হয় --দেবযানও তার সেই ব্যতিক্রম । বিভূতিভূষণের প্রথম জীবনের জ্ঞান-পিপাসা ও কৌতুহল—সীমাবদ্ধ বলব না-প্রবলতর ছিল দুটি বিষয়ে, উদ্ভিদবিদ্যা ও জ্যোতিষতত্ত্ব। প্রকৃতির প্রতি র্তার যে অনুরাগ-শোঁখিন নয় তাও, বন্যপ্রকৃতি-আশ-শাওড়া, ঘেটুফুল, তিৎপল্লা, বনসিম, কেঁয়োঝাকা প্রভৃতি অখ্যাত অনাদৃত বনফুলের প্রতি তার আকর্ষণ প্রেমের মতোই আবেগময়—এই অনুরাগই তাকে সমগ্রভাবে উদ্ভিদতত্ত্বের দিকে আকৃষ্ট করেছিল। বিভূতিবাবু যত রকম উদ্ভিদের ল্যাটিন নাম জানতেন, তত্ত্ব এই বিদ্যার কোন অধ্যাপকেরও মুখস্থ থাকে কিনা সন্দেহ । জ্যোতিষতত্ত্ব সম্বন্ধে আগ্রহ ও কৌতুহলও অত্যন্ত প্রবল ছিল তার। অসীম অনন্ত বিশ্বের রহস্ত তাকে বিক্ষিত ও মুগ্ধ করত। বহু রাত্রির বিনিদ্র প্রহর আমাদের কেটেছে তার সঙ্গে আলোচনায়—সে সময় লক্ষ্য করেছি, জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর রহস্তের কথা বলতে বলতে তিনি তন্ময় হয়ে যেতেন, তখন যেন নিজেকেই নিজে বলতেন, বোঝাতেন, দ্বিতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সেখানে বাহুল্য হয়ে পড়ত । এই অনস্ত বিশ্বের রহস্য উপলব্ধি করতে করতেই, সম্ভবত যতই এ রহস্তে প্রবেশ করেছেন