পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


4ఆ বিভূতি-রচনাবলী সে নিজের দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে দিলে। পৃথিবীর সম্পর্কে আশা বৌদিদির অধিকার তার চেয়ে অনেক বড়, অনেক স্থায্য । ওদের পাশে গিয়ে দাড়াতে হবে তাকে । যতীন কলকাতার সেই ছোট্ট বাসাবাড়ীতে আবার এসে দাড়িয়েচে । নেত্য বাসাতে উপস্থিত আছে বটে কিন্তু ঘুমুচ্চে। আশা বসে বসে পরদিন রান্নার জন্যে মোচ কুটচে। যতীনের মনে হোল এমনি একদিন সে কুডুলে বিনোদপুরের বাড়ীর রোয়াকে বসে আশাকে মোচা কুটতে দেখেছিল, যতীনের মা তখন বেঁচে, পাশেই তিনিও ছিলেন বসে সেদিন। যতীন কোথা থেকে এসে হঠাৎ এ দৃশ্ব দেখে বড় আনন্দ পেয়েছিল। পল্লীসংসারের সেই শাস্ত পরিচিত পরিবেশ ! এখনও তাই, সেই ছবিটিই অবিকল, কিন্তু কি অবস্থায় ! কোথায় মা, কোথায় কুডুলে বিনোদপুরের সেই যত্নে পাতানো সংসার—কোথায় সে । কোথায় যেন কি অবাস্তবতা লুকিয়ে ছিল আপাতপ্রতীয়মান বাস্তবতার পেছনে । আসল রূপটি চিনতে দেয়নি সংসারের। ছেলেবেলায় শোনা যাত্রার পালার সেই গান মনে পড়লো— কেবা কার পর, কে কার অাপন, কালশয্যা পরে মোহতন্দ্র ঘোরে, দেখি পরম্পরে অসার আশার স্বপন । সব মিথ্যে। সেই সন্ন্যাসীর দেখানো নির্বিকল্প সমাধির অবস্থা মনে পড়লো । কেউ কারে নয় । সব স্বপ্ন, সব মায়া, সব অনিত্য । - পুপ এসে পাশে দাড়াতেই যতীনের চমক ভাঙলো। এ তো এসেচে, একে কিন্তু মিথ্যা বলে মনে হয় না তো ? “নৈহাটির ঘাটে, বসে পৈঠার পাটে’—সেই পুষ্প কি অখণ্ডসত্যরূপে বিরাজ করচে চিরদিন এই খণ্ডিতসত্য খণ্ডিতসত্তা জীবনের আপাতপ্রতীয়মান স্থায়িত্বের মধ্যে ? আশা মোচা কুটে উঠে নেত্যকে ডাকতে লাগলো—ওগো, ওঠে—ভাত বাড়ি ? gনেত্য জড়িতস্বরে কি বল্লে, তারপর চোখ মুছতে মুছতে উঠে বসলো বিছানায় । বল্লে— কি ? বাবাং, এতক্ষণ বসে বসে মোচা কুটলে ? রাত কত ? --তা কি করে জানবো? —দেখে এসে চৌধুরী মশায়ের ঘরে । —হঁ্য, এখন বুড়ে খেটেপুটে এসে শুয়েচে, আমি গিয়ে ওঠাই— —শন্তু চকত্তি আজ এসেছিল ? —আমি জানিনে অতশত খোজ । এখন উঠে দয়া করে থেয়ে আমার হাত অবসর করে WኵS– a d এ কথার উত্তরে নেতা আবার সটান বিছানায় শুয়ে পড়ে একটা অশ্লীল কথা উচ্চারণ করে চোখ বুজলে । - পুষ্প বল্লে--যতীনদী, তুমি চলে এসো, এখানে থেকে না । —পুষ্প, তুমি চলে যাও, আমি আর একটু থাকি । যতীনের মুখের ও চোখের,ভাৰ যেন কেমন। ও মোহগ্ৰস্ত হয়ে উঠেচে পৃথিবীর স্থল