পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


जर्ट४ अण 3ቆዩ9 —তুমি যে সাধু হয়ে উঠলে দেখচি। আবার ধুনো ? পান্না বিরক্তমূখে বললে—আহা, কি যে রঙ্গ করো ! গা যেন জলে স্বায় একেবারে। ও মুখ ঘুরিয়ে নাচের ভঙ্গিতে চলে গেল। কি স্বন্দর লাবণ্যময় ভঙ্গি ওর ! চোখ ফেরানো যায় না। সত্যি, কোন স্বৰ্গে আমায় রেখেচে ও ওকে পেয়ে দুনিয়া ভুল হয়ে গিয়েচে আমার। পূৰ্ব্ব আশ্রমের কথা কিছুই মনে নেই। স্বরবালা-টুরবালা কোথায় তলিয়ে গিয়েচে । বাজার করে একটা ছোট পার্কের বেঞ্চির ওপর বসে বসে এই সব ভাবি । এই বেঞ্চিটা আমার প্রিয় ও পরিচিত, অনেকরার ওর কথা ভেবেচি এটাতে বসে। বাসায় ঢুকভে পান্না বললে—ওগো, আর একবার যেতে হবে বাজারে— —কেন ? —দইওয়ালী এসেছিল, তোমার জন্যে দুই কিনে রেখেচি। পাক৷ কলা নিয়ে এসো, খাবে | আবার পাকা কলা কিনতে বেরুই ! এতেও মুখ । আমি কত সচ্ছল অবস্থায় মানুষ, পান্না তার ধারণাও করতে পারবে না। সব ছেড়ে ওর কাছ থেকে টাকা নিয়ে দু’এক টাকার বাজার করচি, পায়ে জুতো ছিড়ে আসচে, গায়ে মলিন জামা—যে আমি দিনে তিনবার ধুতি পাঞ্জাবী বদলাতুম, তার এই দশা। কিছু না। সংসার অনিত্য। প্রেমই বস্তু। তা এতদিনে পেয়েছি। বস্তলাভ ঘটেচে এতকাল পরে। আর কিছু চাই না। দুপুরবেলা পান্না রোধে বললে—খাবে কিসে ? —কেন, শালপাতায় ? —দোহাই তোমার, তোমার জন্যে অস্তত: একখানা থালা কিনে আনে। —কিছু পয়সা দাও দেখি ? —কত ? —অস্ততঃ দশটা টাকা। দুখান৷ থালা কিনে আনি। —এখন ? আমার হাতে এটো। ধাক্সে আছে। চাবি নিয়ে বাক্স খুলতে পারবে ? আমি হেসে বললাম—না পাল্লা। আমি নিজেই আনছি কিনে। আমার কাছে আছে। ওর ধরণ আমার খুব ভালো লাগলো। ও পয়সা দিতে চাইলে, কোনো প্রতিবাদ করলে না । ওর তো খরচ করার কথা নয়, খরচ করার কথা আমার । অথচ ও অকাতরে বাক্স খুলে পয়সা বার করে দিলে কেন ? পান্না অন্য ধরণের মেয়ে, ওকে স্বতই দেখচি, ওকে অন্য জাতের মেয়ে বলে মনে হচ্চে। ওদের শ্রেণীর অন্য মেয়ের মত নয় ও । আমি দুখান এনামেলের থালা কিনে আনলাম। হাতে বেশি পয়সা নেই। পান্না দেখে হেসেই খুন। আমি শেষে কিনা এনামেলের থালা কিনে আনলাম ? কখনো এ থালায় খেয়েছি আমি ?