পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


चेश् खण SYY পান্না অঘোরে ঘুমুচ্ছে, ওর গলায় সোনার হার । মেয়েমাহুষ সত্যিই বড় অসহায়। ষে কেউ ওর গলা থেকে হার ছিনিয়ে খুন করে রেখে যেতে পারে এ সব বিদেশ-বিভু য়ে। আর ওর যখন এ-ই উপজীবিকা, বাইরে না গিয়ে তখন ওর উপায় নেই। আমি ওকে ফেলে অনায়াসে পালাতে পারি, আমার মহাভিনিস্ক্রমণ এই মুহূর্তেই সংঘটিত হতে পারে— কিন্তু তা আমি যাবে না। আমার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে ও আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে চলে এসেচে, একে আমি অসহায় অবস্থায় ফেলে যেতে পারি ? পাঞ্জা আমার পায়ের শধে ঘুম ভেঙে উঠলো। জড়িত স্বরে বললে—কে ? —আমি । —শোও নি ? —না। আমি তোমার গলার হার চুরি করবো ভাবছিলাম। —সত্যি ? —আমি মিথ্যে বলচি ? —বোসে এখানে। হ্যাগে, তুমি তা পারো ? —কেন পারবো না । পুরুষ মানুষ সব পারে! —তোমার মত পুরুষ মানুষে পারে না । শোনো, একবার কি হয়েছিল আমার ছেলেবেলায়। শশীমুখী পিসি ছিল আমাদের পাড়ায়। পরম স্থনরী ছিল সে—আমার একটু একটু মনে আছে। তার সঙ্গে অনেক দিন থেকে রামবাবু বলে একটা লোক থাকতো। তার ঘরেই থাকতো, মদ খেতো, বাজার থেকে হিংয়ের কচুরি আনতো। একদিন রাত্রে, সেদিন সেই কালী পূজোয়, আমার বেশ মনে আছে—শশীমুখী পিসিকে খুন করে তার সর্বস্ব নিয়ে সেই রামবাৰু পালিয়ে গেল। সকালে উঠে ঘরের মধ্যে রক্তগঙ্গা। —ধরা পড়েছিল ? —না। কত খোজ করা হয়েছিল, কোন সন্ধান নাকি পাওয়া গেল না --তারপর শোনো না। ঘরে একটা ক্লকঘড়ি ছিল, তার মধ্যে শশীপিসি জড়োয়ার হার রাখতো। রামবাৰু সেটা জানতো না—তার প্ররদিন সেই হার বেকলে ঘড়ির মধ্যে থেকে, পুলিশে নিয়ে গেল। কার জিনিস কে খেল ! আমাদের জীবনই এইরকম-বুক কাপে সব সময়। কখন আছি, কখন নেই। যত পাজী বদমাইস লোক নিয়ে আমাদের চলতে হয়, ভালো লোক ক’টা আসে আমাদের বাড়ী ? বুঝতেই পারচো তো । —অর্থাৎ আমি একজন পাজী লোক ? —ছি, তোমাকে কি বলচি ? আমি মানুষ চিনি। তোমার কাছে যতক্ষণ আছি, তত ক্ষণ কোনো ভয় থাকে না | —আমায় বিশ্বাস হয় ? —বিশ্বাস হয় কি না বলতে পারি নে। তবে তুমি যদি খুন করেও ফেলো, মনে দুঃখ না নিয়েই মরবো। তোমার ছুরি বুকে বিধবার সময় ভয় হবে মা এতটুকু ৷