পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૨8 ৰিভৃতি রচনাৰঙ্গী আমি গিয়ে বললাম—পান্না শুনচো সব ? কি করবে বলো, ফিরে যাও লক্ষ্মীটি— পান্না আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইলো। কথা বললে না। আবার বললাম—পুলিশের লোক বেশী সময় দিতে চাইচে না। জবাব দাও। জামার কথা শোনো বাড়ী স্বাও— —কেন যাবো ? 劃 —নইলে ওরা ছাড়বে না। তুমি নাবালিকা। আমার সঙ্গে নিজের ইচ্চায় আসতে পারো না ওরা বলছে । —তাহ’লে ওরা তোমাকে কিছু বলবে না ? —আমায় বলুক, তার জন্যে আমার মাথাব্যথা নেই। তোমাকে হায়রানি না করে। —আমি যাবো, ওদের বলে । পান্নার মুখ থেকে একথা যেমন বেরুলো, আমি যেন বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, সত্যি বলচি ! এ আমি কখনো আশা করি নি। কেন ও যেতে চাইলো এত সহজে ? আমি কখনো ভাবি নি ও একথা বলবে । আমার গলা থেকে কি যেন একটা নেমে বুক পর্যন্ত খালি হয়ে গেল। ভয়ানক হতাশায় এমনতর দৈহিক অহভূতি হয় আমি জানি । আমি ওর কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে বললাম-বেশ, বেশ তাই বলি– —কোথায় নিয়ে যাবে ওরা ? —তোমার মায়ের কাছে । পুলিশের লোকেরা আমার কথা শুনে গাড়ী ডাকলে, ওর জিনিসপত্র গাড়ীতে তুলে দিলাম, কি-ই বা ছিল ! গোট দুই তোরঙ্গ। নতুন কেনা চায়ের বাসন ওর জিনিসের সঙ্গেই গাড়ীতে তুলে দিলাম। বড় আশা করেছিলাম যাবার সময় যখন আসবে ও কখনো যেতে চাইবে না ভীষণ র্কাদবে। পান্ন। নিঃশব্দে গিয়ে গাড়ীতে উঠলো। একবার কেবল আমার দিকে একটু একদৃষ্টে চেয়ে কি দেখে নিলো। তারপর তাড়াতাড়ি খুব হালকা স্বরে বললে—চলি । যেন কিছুই না। পাশের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছে, সন্ধ্যের সময় ফিরে আসবে। চলে গেল পান্না। সত্যিই চলে গেল । একটা পুলিশের লোক আমায় বললে—মশায়, কি করেন ! রাগের স্বরে বললাম—কেন ? —না, তাই বলচি। বলছি, মশায়, এবার পেত্নী ঘাড় থেকে নামলে ; বুঝে চলুন। আমরা পুলিশের লোক মশায়। কত রকম দেখলাম, তবু যে ধাৰাঁর সময় মায়াকায় কালো না, এই বাহবা দিচ্ছি। কতদিন ছিল আপনার কাছে ? * —সে খোজে আপনার কি দরকার ? を