পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


٥/ما তারপর আবার বললেন, “এজন্মে এই আসছে জন্মে এই ভাব দিয়ে তাকে পাবে ', শশাঙ্ক চুপ করে শুনছিল। এবার প্রশ্ন করলে, “তঁাকে কাকে ?” উত্তর : “ভগবানকে ৷” এখানেও বিভূতিভূষণ জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী এবং এ জন্মে ভাল কাজ করলে পরজন্মে তার ফল পাওয়া যায়, এই মতবাদকে যেন সমর্থন করেছেন। সেই জন্যই ‘অথৈজল’ উপন্যাসটি বিভূতিভূষণের কেবল শেষ উপন্যাস নয়—অনন্তসাধারণ মনীষার, সাধক শিল্পীর শেয বিভূতি । যদিও এই উপন্যাসটি তিনি শেষ করেননি, তবু যে না-বলা-বাণী এর মধ্যে রেখে গেছেন, তাতেই সম্পূর্ণতার তৃপ্তি মনে এনে দেয় । | 8 || তার শেষ গল্পগ্রন্থ ‘কুশল পাহাড়ী’ ও ‘জ্যোতিরিঙ্গণ' গ্রন্থ দুটিতেও তার শেষ জীবনের অভিজ্ঞতার ও লিপিকুশলতার দীপ্তি হোমানলের দু্যতি ধারণ করেছে। প্রত্যেকটি গল্পের যে স্নিগ্ধ-প্রশান্ত ভাব তা মনকে এমন এক অব্যক্ত আনন্দময়লোকে পৌছে দেয়, যেখানে মন আপনি সমস্ত ক্লেদ ও দীনতা ভুলে গ্লানিমুক্ত হয়। গঙ্গায় স্নান করে উঠলে যেমন মনের ভাব হয়, তেমনি একটা অনাস্বাদিত-পূর্ব রসের আস্বাদ এনে দেয়। প্রথমেই জ্যোতিরিক্ষণ-এর গল্পগুলির কথা আলোচনা করব। এ যেন সিমেণ্টের গাথুনি ; কোথাও কোন ফাক, কোন শিথিলতা নেই। প্রত্যেকটি যেন রসে পরিপূর্ণ এক-একটি আঙ্গুরের মত। জ্যোতিরিক্ষণকে এক গুচ্ছ আঙ্গুর বলা যেতে পারে। যদিও জ্যোতিরিঙ্গণ কথাটির আভিধানিক অর্থ জোনাকি ! হ্যা, জোনাকির মত ছোট ছোট অগ্নিপতঙ্গ। নিরন্ধ অন্ধকারের মধ্যে যার দীপ্তি-পথ দেখায়। মনের গভীরে যে অতল অন্ধকার সেখানেও তেমনি ওই গল্পগুলি কেবল অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত আঁধার দূর করে না এ জ্যোতিরিক্ষণী—জোনাকির মত অন্ধকারের বুকে ক্ষণিক আলোর চকমকি নয়, তমসাচ্ছন্ন প্রকৃতির বুকে ব্যথাবেদনা-ভরা এক স্বগভীর অনুভূতির দীপ্তি। অস্তগামী স্বর্ষের আলোকচ্ছটায় আকাশের বুকে খণ্ড-বিচ্ছিন্ন মেঘগুলি যেমন এক স্থির অচঞ্চল ভাবগম্ভীর মহিমময় রূপে প্রতিভাত হয়, বিভূতিভূষণের এই শেষ গল্পগুলির যেন তেমনি এক ধ্রুপদী ভাব। সমাজের সেই সব প্রাচীন সনাতন আদশ, যা আজ অবলুপ্তির পথে, তার প্রতি কেবল যে র্তার গভীর শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস ছিল তাই নয়, সেই চিরন্তন সত্যগুলিকে যেন দু'হাতে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, কিছুতেই ছেড়ে দিতে রাজী নন। বিভূতিভূষণের পরিণত প্রতিভার মননশীলতার খণ্ড খণ্ড স্বাক্ষর এর প্রতিটি গল্পে যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে। অথচ উপদেশ দেবার ছলে, শিক্ষকের মত তিনি তার ভালমন, ন্যায়-অন্যায় কোথাও বিচার করতে যান নি। কোন গল্পই উদ্বেগুপ্রণোদিত প্রচারমূলক নয় । অসাধারণ প্রতিভাধর শিল্পী তার স্বভাবস্থলভ ভঙ্গীতে একেবারে গ্রামের দুঃস্থ পরিবারের জীর্ণ দীর্ণ