পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ੱਢਿ סשל —বাদ দিন ও-কথা । কত মণের চালান ? —সাড়ে-পঁচিশো আর খুচরো সাতাশি••• বাহির হইতে আড়তের কয়াল নিধু সা আসিয়া বলিল—মূহুরমশায়, কাটা ধরাবো ? মাল নামচে গাড়ী থেকে । ভড় মহাশয় বলিলেন—ক’গাড়ী ? দু’গাড়ী, এলো-পাট—কালকের খরিদ । —ভিজে আছে ? —তা তো দ্যাখলাম না—আম্বন না একবার বাইরে। গদাধর ধমক দিয়া কহিলেন—মুহুরীমশায়ের না গেলে, ভিজে কি শুকৃনো পাট দেখে নেওয়া যায় না ? দেখে নাওগে না—কচি থোকা সাজচো যে দিন-দিন । নিধু সা কাচা কয়াল নয়, কয়ালী কাজে আজ ত্রিশ বছর নিযুক্ত থাকিয় মাথার চুল পাকাইয়া ফেলিল ৷ কাটায় মাল উঠাইবার আগে মালের অবস্থা যাচাই করাইয়া লওয়ার কাজটা আড়তের কোনো বড় কৰ্ম্মচারীর দ্বারা না করাইলে ভবিষ্যতে ইহা লইয়া অনেক কথা উঠিতে পারে—এমন কি, একবার দেখাইয়া লইলে. পরে বিক্রেতার সহিত যোগসাজশে মণমণ ভিজা পাট কাটায় তুলিলেও আর কোনো দায়িত্ব থাকে না—তাহাও সে জানে। বাবুরা ইহার পর আর তাহাকে দোষ দিতে পারিবে না। তবুও সে গদাধরের কথার প্রতি সমীহ করিয়া বিনীত-ভাবে বলিল—তা যা বলেন বাবু, তবে মুহুরীবাবু পাট চেনেন ভালো, তাই বলছিলাম । গদাধর বলিলেন--মুহুরীমশায় পাট চেনে, আর তুমি চেন না ? অার এত পাট চেনাচেনির কি কথাই-ব হলো ? হাত দিয়ে দেখলে বোঝা যায় না, পাট ভিজে কি শুকৃনো ? নিধু কয়াল দ্বিরুক্তি না করিয়া চলিয়া গেল। মুহরীর দিকে চাহিয়া গদাধর বলিলেন—ভড়মশায়, নিধেটা দিন-দিন বড় বেয়াদব হয়ে উঠচে–মুখোমুথি তর্ক করে। ভড় মহাশয় তাহার উত্তরে মুছ হাস্ত করিলেন মাত্র, কোম কথা বলিলেন না। ইহার কারণ, গদাধরের চণ্ডালের মত রাগে ইন্ধন যোগাইলে, এখুনি চটিয়া লাল হইয়া মিধু কয়ালকে বরখাস্তও করিতে পারেন তিনি। কিন্তু ভড় মহাশয় জানেন, নিধু সা চোর বটে, তবে সত্যই কয়ালী কাজে ঝুনা লোক—গেলে অমনটি হঠাৎ জুটানো কঠিন। সন্ধ্যা হইয়া গেল । এষ্ট সময় কে একজন বাইরে কাহাকে বলিতেছে শোনা গেল—না, এখন দেখা হবে না, 학NG || গদাধর ইলিয়া বলিলেন-কে রে ? - নিধু কয়ালের গলার উত্তর শোনা গেল—কে একজন সন্নিসি ফকির, বাৰু। কথার শেষ ভালো করিয়া হইতে-না-হষ্টতে একজন পাঞ্জাবী-সাধু ঘরে চুকিল—হলয়ে