পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


39 e বিভূতি-রচনাবলী আড়তে একদিন কর্মচারীদের বিরাট ভোজের ব্যবস্থা হইল। অনঙ্গ বলিল—একদিন গ্রামের বিধবাদের ভালো ক'রে খাওয়ানো আমার ইচ্ছে—কি বলো ? গদাধর খুশী হইয়া বলিলেন—ভালোই তো । দাও না থাইয়ে। কি-কি লাগবে, বলো ? সে-কাৰ্য্য বেশ স্বচারুরূপেই নিম্পন্ন হইল। ব্রাহ্মণ-বিধবা র্যারা তারা গদাধরের বাড়িতে খাইবেন না—অন্যত্র তাহাদের জন্য জিনিসপত্র দেওয়া হইল—র্তাহার নিজের রাধিয়াবাড়িয়া খাইবেন । বাকী সকলের জন্য অনঙ্গ নিজের বাড়ীতেই ব্যবস্থা করিল। সেই রাত্রেই গদাধর স্ত্রীকে বলিলেন—সব ঠিক ক’রে ফেলি, বলো—তুমি কথা দাও। অনঙ্গ বিস্ময়ের স্বরে বলিল—কি ঠিক করবে ? কি কথা ? —এখান থেকে কলকাতায় গিয়ে আড়ত খুলি। দ্যাথো, এবারকার লাভের অঙ্ক দেখে আমার মনে হচ্ছে, এই আমাদের ঠিক সময় । সামনে আমাদের ভালো দিন আসচে। পাড়াগায়ে পড়ে থাকলে ছোট হয়ে থাকতে হবে। কলকাতায় যেতেই হবে। --আচ্ছা, এ পরামর্শ কে দিলে বলে! তো সত্যি করে ? -- অবিপ্তি নিৰ্ম্মল বলছিল, তাছাড়া আমারও ইচ্ছে। —তুমি যা ভালো বোঝে করবে, এতে আমার বলবার কিছু নেই—কিন্তু গা ছেড়ে, ভিটে ছেড়ে চলে যাবে, তাই বলছিলুম ! এই ছাখে। না কেন, আজ সব এ-পাড়ার ওপাড়ার বিধবারা এখানে খেলেন, কি খুশীই সব হলেন খেয়ে ! ধরে ওই মাষ্ঠীর মা, খেতে পায় না—স্বামী গিয়ে পৰ্য্যস্ত দুর্দশার একশেষ। তার পাতে গরম-গরম লুচি দিয়ে আমার যেন মনে হলো, এমন আনন্দ তুমি আমায় হাজার থিয়েটার যাত্রা দেখালেও পেতুম না! আহ, কি খুশী হলো খেয়ে ! দেখে যেন চোখে জল আসে । এদের ছেড়ে যাবো—কোথায় যাবো, সেখানে গিয়ে কিভাবে থাকবো, তাই কেবল ভাবচি ! গদাধর হাসিয়া বলিলেন—নতুন কাজ করতে গেলে, সাহস করতে হয় মনে, নইলে কি হয় ? এতে ভাবনার কিছু নেই। আমি একটা ছোট-খাটো বাড়ীর সন্ধান পেয়েছি, বায়না ক’রে ফেলি, তুমি কি বলে ? —যা তোমার মনে হয়। যদি বোঝে, তাতে সুবিধে হবে, তাই করে। পরদিন নিৰ্ম্মলকে কলকাতায় গিয়া বাড়ী বায়ন করানের জন্য গদাধর পাঠাইয়া দিলেন এবং বৈশাখ মাসের শেষে এখান হইতে কলিকাতায় যাওয়ার সব ঠিকঠাক হইয়া গেল। ভড়মহাশয় একদিন বলিলেন—বাবু, একটা কথা বলবো ? —কি বলুন ? —আমার এতদিনের চাকরিটা গেল ? —কেন, গেল কি-রকম ? —এখানে আড়ত রাখবেন না তো ?