পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী مانند যদি কেউ বেশি খান, আবার দেওয়া ভালো । গদাধর মুখ তুলিয়া দেখিলেন, মেয়েটির ডাগর চোখের পূর্ণ দৃষ্টি র্তাহার মুখের উপর। কি স্বল্পর মুখত্ৰ, অপূৰ্ব্ব লাবণ্যভর ভঙ্গি ঠোঁটের নীচের অংশে। গঙ্গাধরের সারা দেহ নিজের অজ্ঞাতে শিহরিয়া উঠিল। নামজাদা অভিনেত্রী শোভারাণী মিত্র--তাহাকে—গদাধর বস্নকে সম্বোধন করিয়া কথা বলিতেছে । বিশ্বাস করা শক্ত ! গদাধর তখনই চোখ নামাইয়া লইলেন। বেশীক্ষণ মেয়েটির মুখের দিকে চাহিতে পারিলেন ম। ছবিতে এইমাত্র যাহাকে দেখিয়া আসিলেন—সেই নিৰ্য্যাতিত মহীয়সী বধু কমল৷ রক্তমাংসের জীবস্ত দেহ লইয়া, তাহার অপূৰ্ব্ব মুখশ্ৰী লইয়া সম্মুখে দাড়াইয়া বলিতেছে.. তাহাকেই•••গদাধর বস্ককে ! বলিতেছে—আপনার চায়ে কি চিনি কম হয়েচে ? এমন ঘটনা কিছুক্ষণ পূর্বেও তিনি কল্পনা করিতে পারিতেন না ! অথচ চিনি আদৌ ঠিক ছিল না। চিনির অভাবে চা তেতো বিস্বাদ । চায়ে চার চামচের কম চিনি তিনি কখনো খান না বাড়ীতে । ইহা লইয়া অনঙ্গ তাহাকে কত ক্ষেপাইত— ‘তোমার তো চা খাওয়া নয়, চিনির শরবৎ খাওয়া ! চিনির রসে কাপের সঙ্গে ডিসের সঙ্গে এটে জড়িয়ে যাবে, তবে হবে তোমার ঠিকমত চিনি।” কিন্তু এ তো আর অনঙ্গ নয় ! এখানে সমীহ করিয়া চলিতে হইবে বৈ কি ! শচীন বলিল—তোমরা এদিকে গিয়েছিলে কোথায় ? হাসিয়া নিৰ্ম্মল বলিল—আমরা এইমাত্তর প্রতিদান’ দেখে ফিরলুম। —কেমন লাগলো ? —বেশ লেগেচে—বিশেষ ক'রে এর পার্ট—ও ! মেয়েটি গদাধরের দিকে চাহিয়া সরাসরিভাবে জিজ্ঞাসা করিল—আপনার কেমন লাগলো ? গদাধর সঙ্কুচিত ও অভিভূত হইয়া পড়িলেন। এমন ধরণের স্বনারী শিক্ষিতা মহিলার সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য ঘটা দূরের কথা—এর আগে এমন মহিলা তিনি চক্ষেও দেখেন নাই ! শিক্ষিতা নিশ্চয়, কারণ, ওই ছবির মধ্যে এর মুখে যে সব বড়-বড় কথা আছে, যেমন সব গান ইনি গাহিয়াছেন, যেমন ইহার চমৎকার উচ্চারণের ভঙ্গি, কথা বলিবার কায়দা, হাত-পা নাড়ার ধরণ ইত্যাদি দেখা গিয়াছে—শিক্ষিত না হইলে অমনটি করা যায় না । গদাধর পল্লীগ্রামে বাস করেন বটে, কিন্তু মানুষ চেনেন। তিনি বলিলেন—খুব ভালো লেগেছে। ওই যে নিৰ্ম্মল বললে, আপনার পাট—ওরকম আর দেখিনি । —কোন জায়গাটা আপনার সব চেয়ে ভালো লেগেছে বলুন তো ? দেখি, আপনার বাইরে থেকে আসেন, আপনাদের মনে আমাদের অভিনয়ের এফেক্টটা কেমন হয়, সেটা জানা খুব দরকার আমাদের। - শচীন অভিমানের স্বরে বলিল—কেন, আমরা বানের জলে ভেলে এসেছি মাঙ্কি ? আমাদের মতের কোনো জাম- **