পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী جسbذ —ও ! আচ্ছা, থাক, তবে । —কিছু বলতে হবে, বাৰু? —না-আচ্ছা—না, থাকৃ। আমি অন্য একসময় বরং••• বলিতে-বলিতে দরজার সামনে শোভারাণীর মোটর আসিয়া দাড়াইল এবং মোটরের দরজা খুলিয়া নামিয়া গদাধরকে দেখিয়া শোভা বিস্ময়ের স্বরে বলিল—আপনি এখন ? কি বলুন তো ? - গদাধর হঠাৎ যেন সঙ্কুচিত হইয়া ছোট হইয়া গেলেন। কেন এখানে আসিয়াছেন, তাহার কি উত্তর দিবেন ? নিজেই কি তাহা ভালো বুঝিয়াছেন ? বোঝেন নাই। কিন্তু তিনি কোনো-কিছু উত্তর দিবার পূর্বেই শোভা অপেক্ষাকৃত নরম স্বরে বলিল –আস্কন, চলুন ওপরে। আপনি যে-রকম মানুষ, তাতে পাটের আড়তদার হওয়া উচিত ছিল না, উচিত ছিল কবি হওয়া । আস্বন। এইদিন হইতে গদাধর আড়ত হইতে সন্ধ্যার পরে প্রায়ই দেরিতে বাড়ী ফিরিতে লাগিলেন। অনঙ্গ প্রথম-প্রথম কত বকিত, রাগ করিত, এত রাত হইবার কারণ কি—শরীর খারাপ হইলে টাকায় কি হইবে ? এত পরিশ্রম শরীরে সইবে কেন ? ইত্যাদি। গদাধর প্রায়ই কোনো উত্তর দিতেন না। যখন দিতেন, তখন নিতান্তই সংক্ষেপে । কি যে তার অর্থ, তেমন পরিষ্কার হইত না । বাড়ী ফিরিয়া গদাধর সব দিন খাইতেনও মা, না খাইয়া শুইয়া পড়িতেন। অনঙ্গ নিজেদের শোবার ঘরে খাবার আনিয়া যত্ন করিয়া জাল দিয়া ঢাকা দিয়া, জাগিয়া বসিয়া থাকে, স্বামী কখন আসিয়া কড়া নাড়িবেন—কারো সাড়া না পাইলে রাগ করিয়৷ বসিবেন হয়তো ! শীত চলিয়া গেল। ফাঙ্কনের প্রথম সপ্তাহ। এবার পাটের কাজে বেশ লাভ হইয়াছে—গদাধর সেদিন কথায় কথায় প্রকাশ করিয়াছেন স্ত্রীর কাছে । দোল-পূর্ণিমার রাত্রি। অনঙ্গ বাড়িতে সত্যনারায়ণের ব্যবস্থা করিয়াছেন—পূজা হইবার পরে আড়তের লোকজন খাওয়ানো হইবে, আশেপাশের দু’চারজন প্রতিবেশীকে নিমন্ত্রণ করা হইয়াছে । আড়তের কৰ্ম্মচারীদের বসাইয়া লুচি খাওয়ানো হইবে, বাকী সকলকে সত্যনারায়ণের প্রসাদ ও ফলমূল মিষ্টার ইত্যাদি দ্বারা জলযোগ করানো হইবে। অনঙ্গ সারাদিন উপবাস করিয়া আছে, স্বামী ফিরিলে পূজা আরম্ভ হইবে এবং তাহার পর সকলকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা। পাশের গলিতে সিধুর মা নামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ-বিধবা খোলার ঘর ভাড়া লইয়া বাস করেন, তাহার একটি মাত্র ছেলে সামান্য মাহিনীর চাকরি করে। অনঙ্গ তাহাকে এবেলা খাইতে বলিয়াছে, তিনি আসিয়া পূজার নৈবেন্ত ইত্যাদি গুছাইয়া দিয়াছেন—অনঙ্গ তাহাকে একটু অন্বরোধ করিয়াছিল লন্ধ্যার পরে একটু জলযোগ করিতে,