পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SS\ు বিভূতি-রচনাবলী —অত টাকার চেক্ কাকে দিলেন বাৰু? অন্য কৰ্ম্মচারী হইলে মনিবকে এ-প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে সাহস করিত মা হয়তো—কিন্তু ভড়মশায় পুরাতন বিশ্বস্ত কৰ্ম্মচারী, ঘরের লোকের মত-ৰ্তাহার পক্ষে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা, স্বতন্ত্র অধিকার। কথাটা এড়াইবার ভঙ্গিতে গদাধর বলিলেন–ও আছে একটা—ইয়ে—তাহলে কি করবেন বলুন তো ? o ভড়মশায় চিস্তিত-মুখে বলিলেন—দেখি, কি করতে পারি। বুঝতে পারচি নে! কিন্তু কয়দিন নানাপ্রকার চেষ্টা করিয়াও ব্যর্থমনোরথ হইয়া ভড়মশায় বারো তারিখে মনিবকে কথাটা জানাইলেন। মোকামে টীকা আবদ্ধ আছে, এ-কদিনের মধ্যে র্কাচা মাল বেচিম্বা টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। তিনটি মিলের পাটের মোট অর্ডার কণ্টাক্ট করা আছে, তিন মোকাম হইতে সেই অর্ডার-মাফিক পাট ক্রয় চলিতেছে—সে টাকা অন্তক্ষেত্রে ঘুরাইয়া আনিতে গেলে, মিলে সময়মত পাট দেওয়া যায় না। গদাধর মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন। চেক্‌ ব্যাঙ্ক হইতে ফিরিয়া গেলে লজ্জার সীমা থাকিবে না। অবশু অন্য কোনো গদি হইতে টাকাটা ধার করা চলিত—কিন্তু তাহাতে মান থাকে না। সাত-পাচ ভাবিয়া গদাধর সেদিন রাত ন’টার পরে শোভার বাড়ী গেলেন। এদিকে ভড়মশায় চিন্তাকুল মুখে আছেন দেখিয়া খাইবার সময় অনঙ্গ জিজ্ঞাসা করিল—কি হয়েচে ভড়মশায় ? মুখ ভার-ভার কেন ? —ন, কিছু না । —বলুন না কি হয়েচে—বাড়ীর সব ভালো তো ? —না, সে-সব কিছু না। একটা ব্যাপার ঘটেচে—আপনাকে না ব'লে থাকাও ঠিক না। বাবু কোথায় আগাম চেক্ দিয়েচেন মোট টাকার। ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে নয়, তাহলে আমার অজানা থাকতো না। তাহলে উনি কোথায় এ-টাকা খরচ করচেন ? কথাটা আপনাকে জানানো আমার দরকার। তবে আমি বলেচি, এ-কথা যেন বলবেন না বাবুকে । অনঙ্গ চিস্তিত-মুখে বলিল—তাই তো ভড়মশায়, আমি কিছু ভাবগতিক তো বুঝচি নে— মেয়ে-মানুষ কি করবো বলুন ? কিন্তু ওঁর ভাব যে কত বদলেচে সে আপনাকে কি বলি ! বড় ভাবনায় পড়েচি ভড়মশায় । আপনাকে বলল একদিন পরে । উনি আজ-কাল রাতে প্রায়ই বাড়ী আসেন না। দোল-পুন্নিমের দিন দেখলেনই তো ! —ধ্যা, সে-কথা বাবুকে জিগ্যেস করেছিলেন ? —করেছিলাম। বললেন, ব্যবসার কাজ ছিল। আজকাল আমার ওপর রাগ-রাগ ভাব-লব-সময় কথা বলতে সাহস পাই নে । উনি কেমন যেন বদলে গিয়েচেন—কখনো তে। উনি এরকম ছিলেন না ! এখন ভাবচি, আমাদের কলকাতায় না এলেই ভালো ছিল। বেশ ছিলাম দেশে। কালীঘাটের মা-কালীর কাছে মানত করেচি, জোড়া পাট দিয়ে পূজো দেবে।—ওঁর মতি-গতি যেন ভালো হয়ে ওঠে। বড় ভাবনায় আছি। আর কার কাছে কি