পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দম্পতি 3వ —সে-কথা এখন বলবো না । তবে জেনে রেখো যে, ব্যবসার জন্যেই দরকার। ভড়মশায় জানেন না সে-কথা । —দেখ, আমি মেয়েমানুষ—কিই-ব বুঝি ? কিন্তু আমার মনে হয়, ভড়মশায়কে না জানিয়ে তুমি কোনো ব্যবসাতে নেমো না—অস্ততঃ পরামর্শ কোরো তার সঙ্গে।—পাকা লোক—আর আমাদের বড় হিতৈষী—আমায় না হয় নাই বললে, কিন্তু ওঁকে জামিও। —এ নতুন ব্যবসা । ভড়মশায় সেকেলে লোক-উনি এর কিছুই বোঝেন না। থাক, এখন কোনো পরামর্শ করবার সময় নেই কারে সঙ্গে—যথাসময়ে জানতে পারবে । তুমি এখন খেতে দেবে, না, বকৃবকৃ করবে ? ধমক খাইয়া অনঙ্গ আর কোনো কথা না বলিয়া স্বামীর ভাত বাড়িতে গেল । স্বামীর চোখে ভালোবাসার দৃষ্টি সে আর বহুদিন হইতেই দেখে না—আগে-আগে রাগের কথা বলিলেও স্বামীয় চোখে থাকিত প্রেম ও স্নেহের দৃষ্টি—এখন ভালো কথা বলিবার সময়েও সে দৃষ্টির হদিস পাওয়া যায় না । অনঙ্গ যেন স্বামীর মন হইতে ক্রমশঃ দূরে সরিয়া যাইতেছে। কেন এমন হইল, কিছুতেই সে ভাবিয়া পায় না। পরের মাসে অবস্থা যেন আরও খারাপ হইয়া আসিল । গদাধর প্রায় শেষরাত্রের দিকে বাড়ী ফেরেন, অনঙ্গ সন্দেহ করিতে লাগিল। গদাধর মাঝে-মাঝে সম্পূর্ণ প্রকৃতিস্থ অবস্থায় ফেরেন না ! আসিয়াই বিছানায় শুইয়া পড়েন, কারো সঙ্গে কথা বলেন না—বিছানা হইতে উঠিতে দশটা বাজিয়া যায়। গদির কাজও নিয়মমত দেখাশুনা করেন না। ভড়মশায় ইহা লইয়া দু-একবার বলিয়াও বিশেষ কোনো ফল লাভ করিলেন না। শ্রাবণ মাসের দিকে হঠাৎ একদিন গদাধর ব্যস্তসমস্ত ভাবে বাড়ী আসিয়া বলিলেম— আমি একবার বাইরে যাচ্ছি, হয়তো কিছু দেরি হতে পারে ফিরতে—খরচপত্র গদি থেকে আনিয়ে নিও—ম্ভড়মশায়কে বোলো, যদি কখনো দরকার হয়। অনঙ্গ উৎকণ্ঠিত-দষ্টিতে স্বামীর দিকে চাহিয়া বলিল—কোথায় যাবে ? ক’দিনের জন্তে —এমন হঠাৎ••• —আছে, আছে, দরকার অাছে। দরকার না থাকলে কি বলচি ! —তা তো বুঝলাম—কি বলতে দোষ কি, বলেই ধাও না। তুমি আজকাল আমার কাছে কথা লুকোও—এতে আমার বড় কষ্ট হয়। আমি তোমাকে কখনো বারণ করিনি বা বাধা দিইনি,—তবে আমায় বললে দোষ কি ? —হবে, সে পরে হবে । মেয়েমানুষের কানে সব কথা তুলতে নেই। অনঙ্গ স্বামীর মেজাজ বুঝিত। বেশি রাগারগি করিলে তিনি রাগ করিয়া না খাইয়া বাড়ীয় ৰাহির হইয়া যাইবেন। আজকালই যে এমন হইয়াছে তাহ লয়—চিরকাল অনঙ্গ এইরকম দেখিয়া আসিতেছে। তবে পূর্বে অনঙ্গ ইহাতে তত ভয় পাইত না—এখন ভরসাহারা হইয় পড়িয়াছে—স্বামীর উপর সে-জোর যেন সে ক্রমশঃ হারাইতেছে। গঙ্গাধর একমাসের মধ্যে বাড়ী আসিলেন না, ভড়মশায়কে ব্যবসাসংক্রাস্ত চিঠি দিতেন—