পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দম্পত্তি داده কিছু জিজ্ঞাসা করিতেও সাহস করিল না। তাহার মনে হইল, শোভা এ-সম্বন্ধে কোনো আলোচনা করিতে অনিচ্ছুক। তবুও এ এমনই একটা অবিশ্বাস্ত ব্যাপার, যাহা মন হইতে যাইতে চায় না। শচীন বাসায় ফিরিবার পথে কতবার জিনিসটা মনের মধ্যে নড়াচাড়া করিল। শোভার মত তেজী মেয়ে, সচ্ছল অবস্থার অভিনেত্রী রূপসী তরুণী—কি বুঝিয়া কিসের জন্য এ হান্তকর ঘটনার অবতারণা করিতে গেল ? কোনো মানে হয় ইহার ? যার পায়ের ধূলা পাইলে ভারতী স্টুডিওর মত কতশত ছবি-তোলা কোম্পানি কৃতকৃতাৰ্থ হইয়া যাইত—তাহাকে কিনা চিঠি লিখিয়া জানাইয়া দিল, এখানে তোমাকে চাকুরী দেওয়া সম্ভব হইবে না ! সাহস করিয়া স্টুডিওর বন্ধুবান্ধবের কাছেও এমন মজার কথাটা শচীন বলিতে সাহস করিল না । শোভার কানে উঠিলে সে চটিবে। ভড়মশায় পাটের কাজ ভালে ভাবেই চালাইতেছিলেন! আড়তের ক্যাশ হইতে মাসে মাসে টাকা যদি তুলিয়া না লওয়া হইত, তবে ভড়মশায়ের স্বনিপুণ পরিচালনায় আড়তের কোনোই ক্ষতি হইত না। কিন্তু গদাধর বারবার টাকা তুলিয়। আড়তের খাতা শুধু হাওলাতীহিসাবে ভত্তি করিয়া ফেলিলেন । কাজে মন্দা দেখা দিল । কাত্তিক মাসের প্রথম। নতুন পাট কিনিবার মরসুমে পাঁচ ছ'হাজার টাকা বিভিন্ন মোকামে ছড়ানো ছিল—এইবার সেখান হইতে মাল আনিবার ব্যবস্থা করিতে হয়। এইসময় ভড়মশায় একটা মোট অর্ডার পাইলেন মিল হইতে—মাল যোগান দিতে পারিলে দু’পয়সা লাভ হইবে—কিন্তু টাকা নাই । ভড়মশায় নানাদিকে বহু চেষ্টা করিয়া অকৃতকাৰ্য্য হইয়া শেষে অনঙ্গর সঙ্গে পরামর্শ করিতে গেলেন। গত চার-পাচ মাস তিনি অনঙ্গকে জিজ্ঞাসা না করিয়া, তাহার সহিত পরামর্শ না করিয়া কোনো কাজ করেন না ! অনঙ্গ যে এত ভালো ব্যবসা বোঝে, ভড়মশায় দখিয়া বিস্মিত হুইয়াংেন । বৌ-ঠাকরুণের প্রতি র্তাহার শ্রদ্ধা বাড়িয়া উঠিয়াছে। অনঙ্গ শুনিয়া বলিল—ব্যাঙ্ক থেকে কিছু নেওয়া চলবে না ? —ত হবে না বৌ-ঠাকরুণ, অনুেক নেওয়া আছে, আর দেবে না ? —মোকাম থেকে পাট আনিয়ে নিন, অfর আমার গহনা বা আছে বিক্রি করুন ! —তোমার যা গহনা এখনও আছে, বৌ-ঠাকরুণ, তাতে আর আমি হাত দিতে চাই নে। পাটের ব্যবসা-জুয়ো খেলা, হেরে গেলে তোমার গহনাগুলো যাবে। কিন্তু অনঙ্গ শুনিল না। সেও নিতাস্ত ভীতু-ধরণের মেয়ে নয়, এখন তাহার পিতৃবংশের বৃদিও কেহই নাই—কেবল এক বখাটে ভাই ছাড়া—একসময়ে তাহার বাবাও বড় ব্যবসায়ী ছিলেন—ব্যবসাদারের দিল আছে তাহার মধ্যে । সে জোর করিয়া গহনা বিক্রয় করাইয়া সেই টাকায় মালের যোগান দিল । কিছু টাকাও লাভ হইল । যেদিন মিলের চেক ব্যাঙ্কে ভাঙানো হইবে, সেদিন গদাধর আসিয়া এক হাজার টাকা চাহিয়া বলিলেন। তিনি আজকাল বাড়ীড়ে বড় একটা আসেন না। কোথায় রাত কাটান,