পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


भ*डि ২১é ইয়ে বাবে তাহ'লে । লক্ষ্মীটি, অমত কোরো না। বড় আশা ক'রে এসেচি। গদাধরের চোখে মিনতির দৃষ্টি ! অনঙ্গর মন এতটুকু দমিত না, বা টলিত না, যদি স্বামী তদ্বি-গৰি করিত বা রাগবাল দেখাইত। কিন্তু স্বামীর অসহায় মিনতির দৃষ্টি তাহার মতিভ্রম ঘটাইল। সে নিজেকে দৃঢ় রাখিতে পারিল না। গদাধর টাকা আদায় করিয়া চলিয়া গেলেন । এই টাকা দেওয়ার মুহূর্তের দুর্বলতার জন্য অনঙ্গকে পরে যথেষ্ট কষ্ট সহ করিতে হুইয়াছিল। মাসখানেক পরে আদালতের বেলিফ আলিয়া বাড়ী শিল করিয়া গেল। বন্ধকী বাড়ী, পাছে বেনামী হস্তান্তর হয়, তাই মহাজন ডিগ্রীর আগেই কোর্ট হইতে আটক রাখিবার ব্যবস্থা করিয়াছে। গদাধরের অবস্থা যে কত খারাপ হইয়া পড়িয়াছে, ভড়মশায় তাহা ইদানীং বেশ ভালে৷ করিয়াই জানিতে পারিয়াছিলেন । আড়তের ঠিকানায় বহু পাওনাদার আসিয়া জুটিতে লাগিল। ভড়মশায় পাকা লোক—তাহাদের ভাগাইয়া দিলেন। এ ফার্শের সঙ্গে ও-সব জেনার সম্বন্ধ কি ? অনেকে শাসাইয়া চলিয়া গেল। কিন্তু যেদিন খবর পাওয়া গেল যে, আদালতের বেলিফ, বাড়ী শিল করিবে, সেদিন ভভূমশায় অনঙ্গকে গিয়া সব খুলিয়া বলিলেন। অনঙ্গ বলিল-আমাদের কি উপায় হবে ? —একটা ভাড়াটে-বাড়ী আজ রাত্রের মধ্যেই দেখি, কাল সেখানে উঠে যাওয়া যাক । —তার চেয়ে চলুন, দেশে ফিরে যাই ভড়মশায়। সেখানে গেলে আমার মন ভালো থাকবে । —এই অবস্থায় সেখানে যাবেন বৌ-ঠাকরুণ ? লোকে হাসবে না ? —হাকুক ভড়মশায়। আমার স্বামীর, আমার শ্বশুরের ভিটেতে আমি না খেয়ে একবেলা পড়ে থাকলেও আমার কোনো অপমান নেই। সেখানে সজনে শাক সেদ্ধ ক’রে খেয়েও একটা দিন চলে যাবে, এখানে তা হবে না। আপনি চলুন দেশে । —আমারও তাই মত বৌ-ঠাকরুণ। আপনার যদি তাতে মন না জমে, আজই চলুন না কেন ? 幡 उभांछे অনেকদিন পরে অনঙ্গ আবার দেশের বাড়ীতে ফিরিল। গত চার বছরের বর্ধার জল পাইয়া দু’খানা ছাদ বলিয়া গিয়াছে, উঠানে ভাটশেওড়ার বন ; পাচিলে ও কানিলে বনস্থল ও চিচ্চিড়ের ঝাড়, রোয়াকে ও দেওয়ালের গায়ে প্রতিবেশীয় স্কুটে দিয়াছে। দু’একজোড়া জালালার কৰাট কে খুলিয়া লইয়া গিয়াছে বেওয়ারিশ