পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 বিভূতি-রচনাবলী নীতি আছে, সেগুলো মেনে চলাতেই প্রকৃত ভদ্রতা । বললাম—ডাক্তার রহিমকে যা-তা ভেবে না । উনি খুব ভাল চিকিৎসা করেন—অবিপ্তি আমি নিজে.হয়তো হোমিওপ্যাথি সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানিনে, কিন্তু— সনাতন হাত নেড়ে বললে—না রে ভায়া, তুমি যাই বলে, তোমার কাছে কেউ লাগে না। একবার সাইনবোর্ডটা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়—ডাক্তার বি. সি. মুখাজি এম বি. মেডিকেল কলেজের ভূতপূৰ্ব্ব হাউস সার্জন—সোনার পদক প্রাপ্ত— —তুমি বোসে দাদা, আমি থেয়ে নিই— —বিলক্ষণ! নিশ্চয়ই নেবে। তুমি যাও ভেতরে, আমি এই তক্তাপোশে একটু ঘুম দিই। —বাড়ীতে কেউ নেই । তোমার বউমা গিয়েছেন রাজু গোসাইয়ের বাড়ী নেমস্তন্ন খেতে । কি একটা মেয়েলি ব্ৰত উদ্যাপন। সেই জন্যেই তো এত দেরি করলাম । একটু পরে স্বান সেরে উঠেছি, গৃহিণী বাড়ী এলেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে। সঙ্গে রাজু গোসাইদের বাড়ীর ঝি, তার হাতে একটা পুটুলি । আমায় দেখে স্বরবালা বললে—কি গো, এখনও খাও নি ? —কই আর খেলাম। —দাড়াও ভাত এনে দিই, লক্ষ্মী জায়গা করে দে— —খুব খাওয়ালে রাজু গোসাইয়েরা ? কিসের ব্রত ছিল ? —এয়োসংক্রাস্তির ব্রত। তোমার জন্যে খাবার দিয়েছে— —আমার জন্যে কেন ? আমি কি ওদের এয়ো ? —তা নয় গো । তুমি গায়ের ডাক্তার, ডাক্তারকে হাতে রাখতে সবাই চেষ্টা করে। —না না, ও আমি ভাল বাসি নে ! লোকের অযথা ব্যয় করিয়ে দিতে চাই নে আমি । ও আনা তোমার উচিত হয় নি । —আহা ! কথার ছিরি দ্যাথো না । আমি বুঝি ছাদ বেঁধে আনতে গিয়েছিলাম—ওর। তো পাঠিয়ে দিলে ঝি দিয়ে। পৈতৃক আমলের দোতলা কোঠা বাড়া । আহারাদি সেরে পূবদিকের ঘরে বিশ্রাম করতে গেলাম। বড় পালঙ্কখাটে পুরু গদি-তোশক পাতা ভাল বিছানা । স্বরবালার নিজের হাতের স্থচের কাজের বালিশ-ঢাকা বালিশের-ওয়াড়। খাটের ঝালরও ওর নিজের হাতের। এই একটা বিষয়ে আমার শৌখিনত অাছে স্বীকার করছি, ভাল বিছানা না হোলে ঘুম হবে ন কিছুতেই। তা ছাড়া, ময়ল কোনো জিনিস আমি দেখতে পারি নে, দশদিন অস্তর মশারি ধোপার বাড়ী দিতে হবেই। আমার এক রোগীর বাড়ী থেকে পুরনো দামে একখানা বড় আয়না কিনেছিলাম, ওপাশের দেওয়ালে সেটা বসানো, স্বরবালার শখের ড্রেসিং টেবিল পালঙ্কের বা ধারে, তিনখানা নতুন বেতের চেয়ার এবার কলকাতা থেকে আনিয়েছি,