পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२३ বিভূতি-রচনাবলী আনাইয়া সেবা-শুশ্ৰুষার ব্যবস্থা করিলেন—প্রতিবেশীরা বিশেষ কেহ উকি মারিল না। চৌদ্ধ-পনেরো দিন পরে অনঙ্গ সারিয়া উঠিয়া রোগ-জীর্ণ-মুখে পথ্য করিল। কিন্তু তখন সে অত্যস্ত দুৰ্ব্বল—উঠিয় দাড়াইবার ক্ষমতা নাই । ভড়মশায় এতদিন জিজ্ঞস করিবার অবকাশ পান নাই, আজ জিজ্ঞাসা করিলেন— বৌ-ঠাকরুণ, টাকা কোথায় ? * - —টাকা সিন্দুকে আছে। --চাবিটা দাও, দেখি । এদিক-ওদিক খুঁজিয়া চাবি পাওয়া গেল না। বালিশের তলায় তো থাকিত, কোথায় আর যাইবে, এখানে কোথাও আছে । সব জায়গা ভন্ন তন্ন করিয়া খোজ হইল, ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হইল, অবশেষে কামার ডাকাইয়া তাল ভাঙিয়া দেখা গেল, সিন্ধুকে কিছুই নাই। টাকা তো নাই-ই, উপরন্তু অনঙ্গর হাতের ছ’গাছা সোনা-বাধানো হাতীর দাতের চুড়ি ছিল, তাহাও উবিয়া গিয়াছে। আর গিয়াছে গদাধরের পিতামহের আমলের সোনার তৈরী ক্ষুদ্র একটি শীতলা-মূৰ্ত্তি। ক্ষুদ্র হইলেও প্রায় ছ'সাত ভরি ওজনের সোনা ছিল মূৰ্ত্তিটাতে। বহুকষ্ট্রে অঙ্গিত অর্থের সঙ্গে শীতলা-স্মৃত্তির অন্তৰ্দ্ধানে, নানা অমঙ্গল-আশঙ্কায় অনঙ্গ মাথা ঠুকিতে লাগিল । ভড়মশায় মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন । আজ এক বৎসরের বহু কষ্ট্রে সঞ্চয়-করণ , যৎসামান্য পুজি যাহা ছিল, কোনোরকমে তাহাতে হাত-ফেরতা খুচরা ব্যবসা চালাইয়া সংসারযাত্রা নির্বাহ হইতেছিল। অবলম্বনহীন, সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় এখন ইহাদের কি উপায় দাড়াইবে ? ভড়মশায় জিজ্ঞাসা করিলেন—বাড়ীতে কে-কে আসতো ? অনঙ্গ বিশেষ কিছু জানে না ! তাহার মনে নাই। জরের ধারে সে রোগের প্রথমদিকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়িয়া থাকিত—কে আসিয়াছে, গিয়াছে, তাহার খেয়াল ছিল না। প্রতিবেশিনীর মাঝে-মাঝে তাহাকে দেখিতে আসিত-শচীনের মা একদিন না দুদিন আসিয়াছিলেন, স্বর্ণ গোয়ালিনী একদিন আসিয়াছিল মনে জাছে—আর আসিয়াছিলেন, মুখুয্যে-গিল্পী। তবে ইহাদের বেশির ভাগই অশুচি হইবার ভয়ে রোগীর ঘরের মধ্যে ঢোকেন নাই, দোরে দাড়াইয়া উকি মারিয়া দেখিয়া, ডিঙাইয়া-ডিঙাইয়া উঠান পার হইয়া গিয়াছিলেন । ইহার একটি ন্যায্য কারণ যে না ছিল তাহা নয়। বাড়ীর ছেলে ছুটি মায়ের শাসনদৃষ্টি শিথিল হওয়ায় মনের আনন্দে যেখানে-সেখানে ভাত ছড়াইয়াছে, এটে থালাবালন রাখিয়াছে, যাহা খুশি তাঁহাই করিয়াছে—সেখানে কোনো জাতিজন্মবিশিষ্ট হিন্দুর ঘরের মেয়ে কি করিয়া নিব্বিকারমনে বিচরণ করিতে পারে, ইহাও ভাবিয়া দেখিবার বিষয়। শুধু লোকের নিন্দা করিয়া লাভ নাই। চুরির কোনো হলি মিলিল না। উপরন্তু অনঙ্গ বলিল—ভড়মশাশ্ব, আমার বা গিয়েছে,