পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


चहैश् छ्ज & মুরবালার ফরমাশ-মত খান-আষ্ট্রেক বৌবাজার স্টুডিওর ছবি—কালীয়-দমন, রাসলীলা, অন্নপূর্ণার শিবকে ভিক্ষাদান, শ্ৰীশ্ৰীলক্ষ্মী, শ্ৰীশ্ৰীসরস্বতী ইত্যাদি । আমার পছন্দসই আছে একখানা বিলিতি ল্যাগুস্কেপ—সেও ওই বৌবাজারের দোকানেই কেন । জানালার গায়ে জামরুলগাছের ডালটা এসে কুয়ে পড়েছে, তার পেছনেই জাওয়া বাশের ঝাড়। শীতের বেলা, এর মধ্যেই বাগানের আমতলায় মুচুকুন্দ চাপা গাছটার তলায় ছায়া পড়ে এসেছে, ছাতারে পাখীর দল জামরুল গাছটার ডালে কিচ কিচ করছে—বাগানের স্বদুর পাড়ের ঘাসের জমিতে আমাদের বাড়ীর গরু ক’টা চরে বেড়াচ্ছে । স্বরবালা পানের ডিবে হাতে এসে বললে—একটু ঘুমিয়ে নাও না। —বাইরে সনাতন চক্কত্তিকে বসিয়ে রেখে এসেছি । —সে মিনসের কি যাবার জায়গা নেই, এখানে এসে জুটেছে কেন দুপুরে ? —যুমুচ্ছে। —তবে তুমিও খুমোও । স্বরবালাকে বেশিক্ষণ দেখতে পাইনে দিনের মধ্যে, খোকা-খুকিদেরও না । বললাম— বোসো আমার কাছে, আবার হয়তো এখুনি বেরুতে হবে । একটু গল্পগুজব করি। স্বরবালা বালিশে হাত রেখে বসলো পাশেই । বললে—আজ আর বেরিও না—এত বেলায় এলে— —পাশের গায়ে একটা শক্ত রাগী রয়েছে, তার কথাই ভাবছি— —যেতে হবে ? কল না দিলেও ? —আমি তাই তো যাই। ফি নিইনে নিজে গেলে । তুমি তো জানে। —গরুর গাড়ীতে চলে না। তোমার শরীরের কষ্ট বড় বেশী হয়। —দেখি একখানা মোটর কিনবার চেষ্টায় আছি ! কলকাতায় গেলে এবায় দেখবো। স্বরবালা আবদারের স্বরে বললে—ই্যাগ, নিয়ে এসে কিনে একখানা—আমাদের একটু চড়ে বেড়াবার ইচ্ছে। আনবে এবার ? —র্কাচ রাস্তা যে ! বর্ষাকালে— —কেন, তোমুরি ডিসপেনসারিতে রেখে দেবে বর্ষাকালে । বাজারে তো পাকা রাস্তা। —তোমার ইচ্ছে ? —খু-উ-ব । জয়রাজপুরের মল্লিকবাড়ীতে তাহলে দুর্গ-পূজোয় মোটর চড়ে নেমস্তন্ন খেতে যাই এ বছর। —এ বছর কি রকম ? সামনের বছর বলো— —ঐ হোল। খুচুকে টুক্ষকে বেশ করে সাজিয়ে মোটরে উঠিয়ে— —ন না, ওদের মাথায় ওসব ঢুকিও না এ বয়সে। ওদের কিছু বলার দরকার নেই। —আহা! আমি যেন বলতে যাচ্ছি ? তুমি বললে, তাই বললাম। —বেশ, দেখছি আমি। তোমার হাতে কত আছে ?