পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


रै8० বিভূতি-রচনাৰলী তারা বললে, আহা, কেন আবার—তুমি খাও— এই সময় উপেন ভটচাজ খড়ম পায়ে দিয়ে উপর থেকে নেমে এলেন। ঘরে উকি দিয়ে বললেন—কে ? ভবতারণ ? ভাল পেঁপে, খা । ইয়ে বেীমা, আমি আলি। ওখানেই খাব ৷ ভবতারণ আজ আছিস তো ? 顧 ভবতারণ দাড়িয়ে উঠে বললে, না বাবা, ওবেলা চলে যাব। আপনি আসবেন না ওবেলা ? —আচ্ছা, তুই যাবার আগে আমি ফিরে আসবে। আমি এই সময় তারা ফিস ফিস স্বরে কি বললে স্বামীকে । ভৰতারণ ডেকে বললে, বাৰা— -ਿ ? . - —এবেলা এখানে ছুটে খাবেন, আপনার বৌমা বলছে। কই মাছ জানতে যাচ্ছি বাধালে। একসঙ্গে বসে অনেকদিন খাই নি—কেমন ? উপেন ভটচাজ সম্মতি জ্ঞাপন করে রোয়াক থেকে উঠানে পা দিলেন। কি ভেবে এলে আবার বসলেন রোয়াকে । পুত্রবধূ বললে—তামাক সেজে দেব ? —ছাও দিকি । ছেলে ভবতারণ নিজেই তামাক সেজে নিয়ে এল। বৃদ্ধ উপেন ভটচাজ চোখ বুজে ছকোয় টান দিতে দিতে চিন্তা করতে লাগলেন, এমন সকালবেলা কতকাল আসে নি তার জীবনে । ই মারা গিয়েছে আজ বোধ হয় বিশ বছর, ভবতারণ তখন এগার বছরের বালক। তার পর থেকেই ছন্নছাড়া সংসারজীবন চলছে, জাটর্সটি নেই কোন বিষয়ে কারও। তার ওপরে দারিদ্র্য তো আছেই। হাতে পয়সা ছিল না বলেই ভবতারণকে লেখাপড়া শেখাতে পারেন নি। লেখাপড়া শেখালে অত খারাপ হত না সে। অবহেলিত,পুত্রের প্রতি উপেন ভটচাজের মায়া হল । কাল অত বকুনি দেওয়াটা উচিত হয় নি। 赐 ভবতারণ বাড়ী ফিরে এল আটটার সময়। স্ত্রীকে বললে—দেখ, কারে বলে যণ্ডরে কই । আধ পোয়ার নামো নেই, ওপরে এক পোয়, পাঁচ ছটাক বাবাকে দেখাও। পুত্রবধূ বললে—এই দেখুন— —বাঃ বাঃ-কত করে সের নিলে ! —সাড়ে তিন টাকা । —তা হবে। যুদ্ধের সময় ছিল ভাল। এ দিন দিন বা হয়ে উঠল— অনেক দিন পরে পুত্র ও পুত্রবধূর সেবাযত্ন জুটল উপেন ভটচাঁজের ভাগ্যে। এমন একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া কতকাল হয় নি। তিনি পড়ে থাকেন মজুমদারদের ঠাকুরবাড়ীতে পেটের দায়েই তো। ছেলে উপযুক্ত হয় নি, নিজেরই ছেলেটাকে সে খেতে দিতে পারে না। ওদের ভার লাম্বব করবার জন্তেই তিনি পরের বাড়ী খান। খাওয়া-দাওয়ার পর উপেন ভটচাঁজ দিবানিজ দেবার জন্তে ওপরের ধরে চলে গেলেন