পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$8w বিভূতি-রচনাবলী ও রান্নাঘরে রাধছিল। খুন্তি হাতে ছুটে এসেছে। খুস্তিতে ডাল লেগে রয়েছে। আমি হেসে বললাম—মারবে নাকি ? —ও ! পাগলা ঠাকুর । তাই বল। আমি বলি কে এল দুপুরবেলা ঘরে । —তোমার ঘরে কুলচুর নেই ? কুস্কম আমায় কুলচুর দিয়েছে—খুব ভাল কুলচুর। —কুস্কমের বড়লোক বাৰু আছে । আমার তো তা নেই? কোথা থেকে কুলচুর আমচুর করব। —কুস্কমের বাবু আমায় গজা দেবে। —কেন দেবে না ? মোড়ের অত বড় দোকানখানা কুস্কমের পায়ে সঁপে দিয়ে বসেছে। ওখানকার কথা ছেড়ে দাও । বলে—মানিনী, তোর মানের বালাই নিয়ে মরি-- ভয়ে ভয়ে বললাম—প্রভা, রাগ ক’রো না আমার ওপর । —ন না, রাগ করব কেন । দুঃখের কথা বলছি । আমিও একপুরুষ বেশ্বে । আমরা উড়ে আসি নি। পনেরো বছর বয়সে কপাল পুড়লে ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম । —কেন ঘর থেকে বেরিয়েছিলে ? —সে সব দুঃখের কথা তোমার সঙ্গে বলে কি হবে। তুমি কি বুঝবে। বসে, আমার ডাল পুড়ে গেল। গল্প করলে পেট ভরবে না। —আমি যাই ? —এস রান্নাঘরে | প্রভার রং কালো, খুব মোটাসোটা, নাকের ওপর কালো ভোমরার মত একটা আঁচিল । প্রভা একদিন আমাকে গরম জিলিপি আর মুড়ি খেতে দিয়েছিল। ওর ঘরে এত জিনিসপত্তর নেই, ওই খাচায় পোষা টিয়া-পাখীটা ছাড়া । প্রভা রান্না করছে চালতের অম্বল। একটা পাথর বাটিতে চালতে ভেজানে। চালতে মনেকদিন খাই নি, দেশ থেকে এসে পৰ্যন্ত নয়। সেখানে আমাদের মাঠে তালপুকুরের ধারে বড় গাছে কত চলিতে পেকে আছে এ সময় । বললাম—চালতে পেলে কোথায় প্রভা ? —বাজারে, আবার কোথায় ? —বেশ চালতে | প্রভা আর কিছু বললে না। নিজের মনে রাধতে লাগল। আমি বললাম—তোমার বাবা মা কোথায় ? —পাপমুখে সে সব কথা আর কি বলি। —বাড়ী যাবে না ? —কোন বাড়ী ? —তোমাদের দেশের বাড়ী । —যমের বাড়ী যাব একেবারে ।