পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R&& বিভূতি-রচনাবলী রামচন্দ্র রায়ের অবস্থা ভাল নয় । দুখান মাত্র দু-চালা ঘর। কয়েক বিধে ধানের জমি । বাড়ীর পেছনে একটা খালের এক-চতুর্থাংশের মালিকানা স্বত্ব আছে, তাতে বছরে ত্রিশ-চল্লিশ মণ মাছ পান । এর দাম দশ টাকা হিসাবে মণ ধরলে তিন চার শ টাকা । এ ছাড়া অন্ত কোন আর নেই। মোটা ভাত মোটা কাপড়ে এক রকম সংসার চলে যায়। রামচন্দ্র রায়ের ছেলে পরমেশের বয়স তেইশ বছর । ছাত্রবৃত্তি পাশ করে স্থানীয় জমিদারী কাছারিতে মুহুরিগিরি কাজে ঢুকেছে। মাসিক বেতন ছ টাকা । 懿 ইতিমধ্যে সে গ্রামের সমবয়সীদের ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছে । তাদের বাপ-মা তাদের বলে, সোনার চাদ ছেলে দেখগে যা রামু রায়ের ছেলে পরমেশ । ছাত্রবৃত্তি পাশ করলে দিব্যি—আবার ছ টাকা মাইনেতে মুহুরিগিরিতে ঢুকেছে। ওর উন্নতি ঠেকায় কেডা ? তোরা শুধু বাড়ী বসে খাবি আর পাশা খেলবি চণ্ডীমণ্ডপে বসে। ছ টাকা মাইনে পাওয়ার কথাটা একটু রটে গেল চারিধারে । ফলে ছেলের বিবাহের জন্তে নানা গ্রাম থেকে সম্বন্ধ আসতে লাগল। রামচন্দ্র রায়ের স্ত্রী ধরে বসলেন আঁকড়ে এক কথা— এক শ এক টাকা বরপণ দিতেই হবে । দশ ভরি সোনা । তা ছাড়া দানসামগ্রী, বরের গরদ আলাদা । অনেকে বললে, বাপ রে, কি দেখে অত টাকা বরূপণ দিতে যাবে লোকে ? এক শ টাকা বরপণ করা পায় ? যাদের ভাল জমিজমা আছে। তোমার কি আছে বাপু ? ছেলে অবিপ্তি স্বীকার করি অল্প বয়সে চাকরিটা পেয়েছে ভালই । কিন্তু ঐ যা ছেলে দেখেই দেওয়া । কম চাওয়া তো নয় । দশ ভরি সোনার দামই ধর আঠার টাকা ভরি হিসাবে এক শ আশি টাকা । না না, ও চলে না। আবার অনেকে বলে, চাওয়ার দিন এসেছে তাই চায়। কই, তুমি আমি তো চাইতে সাহসও করি নে। হীরের টুকরো ছেলে। এই বয়সে উন্নতি করেছে কেমন । আট টাকা তে ওর মাইনে হল বলে । ওকে দশ ভরি সোনা দেবে না তো দেবে কাকে ? অনেক মেয়ে দেখা ও উভয় পক্ষের যাতায়াতের পরে অবশেষে গোবরাপুরের তারিণী চক্রবর্তীর বড় মেয়ে পতিতপাবনীকে রামচন্দ্র রায়ের বেশ পছন্দ হল, তারা বরূপণ ও দশ ভরি সোনা দিতেও চাইলেন । - 譬 জাজ সেই কনেকে নিয়ে পরমেশ বাড়ী আসছে । কিন্তু ইতিমধ্যে রামচন্দ্র রায়ের বাড়ীতেই কথা উঠেছে—তাই তো, বেী আসবার আগে নাড়ু ভাজার দিনই ঘরে আগুন লেগে গেল। শ্বশুরের হাত পুড়ে গেল। এ কি অলক্ষ্মণে বে রে বাবা । কাজে রায়ের স্ত্রী স্বামীকে নাড়ু ভাজার দিন শেষরাজেই কথাটা বলেছিলেন। তখন ټلیفه নেদেধি মঙ্গলের শাখ বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঝলসানো হাতের যন্ত্রণাক্লিষ্ট স্বামীকে জাগিয়ে তুলে পরমেশের মা বললেন–ওগো শোন —কি গা ?