পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


伊 বিভূতি-রচনাৰঙ্গী জোনাকি জলচে। এক জায়গায় শব নিয়ে এসেচে দাহ করতে। নদীতীরে বাবলা তলায় পাচ-ছ'জন লোক বসে জটলা করচে, তামাক খাচ্ছে, দুজনে চিতা ধরাচ্চে। সনাতনদা হেঁকে বললে—কোথাকার মড়া হে ? এরা উত্তর দিলে— বঁাশদ মানিকপুর— —কি জাত ? —কৰ্ম্মকার— —বুড়ো না জোয়ান ? ধমকের স্বরে বললাম—অত খবরে তোমার কি দরকার হে ? চুপ করে বোসে। ধরাও একটা লিগারেট, এই নাও । সনাতন একটু চুপ ক'রে থেকে বললে—একটা কথা আছে। আমাদের গ্রামের তুমিই এখম মাথা । তোমাকে বলতেই হবে । রামপ্রসাদ চাটুয্যে আমাদের গ্রামের লালমোহন চকত্তির মেয়েটার কাছে যাতায়াত করচে অনেকদিন থেকে । এ খবর রাখে । আমি আশ্চৰ্য্য হয়ে বললাম—সে কি কথা ? শাস্তিকে তো খুব ভাল মেয়ে বলেই জানি। —তুমি ও খবর কি রাখবে ? নিজের রুগী নিয়েই ব্যস্ত থাকে। দেবতুল্য মহিষ । এ কথা তোমাকে বলবো বলেই আজ নৌকোতে উঠেচি । এর একটা বিহিত করো। —তুমি প্রমাণ দিতে পারো ? –চক্কত্তি পাড়ার সব লোক বলবে কাল তোমার কাছে। কালই সব ডাকাও ৷ —নিশ্চয়ই। এ যদি সত্যি হয় তবে এর প্রশ্ৰয় আমি দিতে পারি নে গায়ে । আমায় তো জানে! — —জানি বলেই তোমার কানে তুললাম কথাটা—এখন যা হয় করে ভূমি। —শাসন করে দিতে হবেই যদি সত্যি হয়, কাল-সব ডাকি। দুনীতির প্রশ্রয় দেওয়৷ উচিত হবে মা, দেবোও না কখনো । —সে আর আমি জানি নে ! কুঁদির মুখে বাক জন্ম। তুমি ভিন্ন ভায়া এ গায়ে মানুষ কে জাছে, কার কাছে বলবো ! সবাই ওই দলের । রাত্রে স্বরবালাকে কথাটা বললাম। সে বললে—শাস্তি ঠাকুরবি এদিকে তো ভাল মেয়ে, তবে অল্প বয়সে বিধবা, একা থাকে। তুমি কিছু বলো না আগে—মেয়ে মানুষের ব্যাপার। জাগে শোনো। মুখে সাবধান করে দিলেই হবে। আমি ঝাঝের সঙ্গে বললাম--মুখে সাবধানের কৰ্ম্ম নয়। দুর্নীতি গোড়া থেকে চেপে মায়তে হয়—নইলে বেড়ে যায়। সেবার হরিশ সরকারের বৌটাকে কেমন করে শাসন করে দিয়েছিলুম জান তো ? যার জন্যে দেশ ছাড়া হয়ে চলে গেল। স্বরবালা শাস্ত স্বরে বললে—সেটা কিন্তু তোমার ভাল হয় নি। অতটা কড়া হওয়া কি टैिक ? —আলবৎ ঠিক । বা-ত হবে গায়ের মধ্যে !