পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী هونج করে, সেখানে শ্বশুরবাড়ীর সম্পত্তি বাড়ীম্বর সব তার। সে কচিং ভাবনহাটি আসে । তার অবস্থা মন্দ নয় । পরমেশ রায়ের পরলোকগমনের পর বুড়ি অনেক দিন বেঁচে ছিল। আশি বছর বয়স হয়েছিল মরবার সময়। একবার বড় ছেলে নৃপেন রায়ের খুব অস্কখ করে। বুড়ি ভাবনহাটি থেকে ছেলেকে দেখতে যায় বহরমপুরে । তখন নৃপেন রায় বহরমপুরের ম্যাজিস্ট্রেট। বুড়ি বলেছিল—তোকে রেখে আমি যাবই থোকা—কোন ভাবনা নেই, তুই সেরে উঠবি । আমি এই পায়ের ধুলো দিলাম তোর মাথায়, এই তোর বড় ওষুধ । প্রায় পচিশ বছর এই বাড়ীতে এক প্রদীপ দেওয়ার পরে এবার বুড়ি স্বামীর ভিটের পুণ্য মুত্তিকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন গত ২রা ফাঙ্কন । প্রকাণ্ড শ্ৰাদ্ধসভা । মেজর রায় সব দেখাশুনো করে বেড়াচ্ছেন—বুড়ির জ্যেষ্ঠ পৌত্র। স্বন্দর গৌরবর্ণ চেহারা, চোখে চশমা। কাকে বলছেন—কনট্রোলারকে লিখে এক মণ ময়দা অতিকষ্ট্রে যোগাড় করেছিলাম—আর কলকাতার রেশন কার্ডে কিছু কিছু কলেক্ট করে। ভাবনহাটি গ্রামের লোক খুব বেশী হয়েছে। এরা গ্রামের মধ্যে বড় লোক, অনেকদিন পরে দেশে এসেছে, মাতৃশ্ৰাদ্ধ করছে, একটা বড় ভোজ দেবে। তবে মুশকিল এই যে, না মেলে আট ময়দা, না মেলে চিনি। এরা বড় লোক তাই যেখান থেকে হোক জোগাড় করেছে এই বাজারে । শ্রাদ্ধসভা একটা দেখবার জিনিস হয়েছে। বড় শামিয়ানার নীচে শ্রাদ্ধবেদী । তেরটি নাতি মুণ্ডিতমস্তকে যখন দীর্ঘ সারিতে কুশাসনে বসে ভূজ্যি উৎসর্গ করছে—তখন গ্রামের বুড়ি চকত্তি-গিন্নি বললেন—আহা হা, ভাগ্যিমানী চলে গেল। কি ভাগ্যিই নিয়ে এসেছিল । আজ সোনার চাদের বসে দেখ ভূজ্যি উছুগু্যও করছে। এ ভাগ্যি কি সবার হয় । বটুঠাকুরের কী ছিল, দুখানা চালা ঘর । আমরা প্রথম ঘর করতে এসে দেখেছি। দিদি আর কত বড় ছিলেন আমার চেয়ে— না হয় দশ বছরের। সে বাড়ীতে রাজ-অট্টালিকা তুলেছে" ছেলেরা, আবার নাতির হয়েছে একেবারে রাজা । এমন ভাগ্যি নিয়ে কজন মেয়েমানুষ বস্বমতীতে আসে বল— নাতি মানে শুধু ছেলের ছেলেরা নয়, চার মেয়ের ছেলেরাও আছে। - নৃপেন রায়ের ছোট ছেলে কণ্টাক্টর পরিতোষ বেদী থেকে হেঁকে বললে—বিজয়, গাড়ী গিয়েছে ? বিজয় বিনীত ভাবে বললে—দারোগ বাবুর মেয়েছেলে আনতে গিয়েছে গাড়ী। এখনও ফেরে নি । —ফিরলে সাবডেপুটির বাড়ীর মেয়েদের আনতে পাঠাতে হবে—এবার বড়খানা পাঠিও । —যা জল-কাদা সার, গাড়ী চালানো বড় দায় হয়েছে। বড় গাড়ী বেরিয়ে গিয়েছে রাণাঘাটে ছানা আনতে ।